প্রাণের দেওবন্দ | ফয়জুল্লাহ আমান
মায়াবী চাঁদের আলোয় অবগাহিত হয়ে আছে প্রাণের দেওবন্দ
সাহারানপুর জেলার এই প্রাচীন নগরে প্রতিদিন ওঠে চাঁদ
দীপ্তিতে ভরে যায় চারপাশ
রোদের আলোয় চিকচিক করে মসজিদে রশীদের প্রতিটি দুপুর
বহু বছর পর আমি দাঁড়িয়ে আছি কদীম মসজিদের বিরাট উঠোনে
ফুলবাগান উজাড় হয়েছে
তবু সেই পুরনো ঘ্রাণ নাকে এসে লাগে
মুলসিরি কূপের পাশে বকুলে ভরে যায় চত্তর
সেই আগের মতই আছ প্রিয় দেওবন্দ
যুগ শতাব্দী পেরিয়ে যায়
তোমার আলোকরশ্মি আজও অম্লান
বহু বছর পর সদর গেটের সামনে দাড়িয়ে একটানা ঘণ্টাধ্বনি শুনি
সাত্তা মসজিদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাই নীরবে
ইত্তিহাদ গলি দিয়ে বেরিয়ে ঘন সবুজে হারাই
ইতিহাসের একেকটি পাট আমার চোখে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে
মাটিতে মিশে আছে অনেক তরতাজা আবেগ
সূর্যের মত মনীষীদের কণ্ঠ শোনতে পাই এখানের ইথারে
তারুণ্যের দিনগুলো ফিরে আসে জহির শাহ গেটের কাছে
অতীত জীবন্ত হয়ে ওঠে রাওয়াকে খালেদ প্রান্তরে
কী আজব চিত্র
বিলুপ্ত মাঠটা দেখতে পাচ্ছি স্পষ্ট
সারা রাত খোলা আকাশ তলে ইচ্ছে হয় স্মৃতিকাতর হয়ে রই
পুরনো দারুল হাদীসের সামনে আমি যেন সেই উচ্ছল ছেলেটি
সহপাঠি বন্ধুদের দেখতে পাচ্ছি চোখ বুজে সজীব সপ্রাণ
আর পরিবেশ রয়েছে আগের মতই সুন্দর সতেজ…
আমার বিশ্বাস
যুগ যুগ এখানে হতে থাকবে প্রজ্ঞা ও প্রেমের পবিত্র পাঠ পরম্পরা
যতদিন এই চন্দ্রিমা থাকবে এবং
উত্তর ভারতের হিমালয় চূড়ায় যতকাল দেখা যাবে পূর্বাহ্ন সূর্যের প্রখর আলো।


