ফিরে যাই নববী আদর্শে

ফিরে যাই নববী আদর্শে

ফিরে যাই নববী আদর্শে

মুহাম্মাদ আইয়ুব :: মুসলিম রূপী মুনাফিক সর্দার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই। রাসূলে পাক সা. মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করে আসার পর থেকে একের পর এক নেফাকি আর গাদ্দারিতে জড়িয়ে পড়েছে সে। আনসার মুহাজিরে দাঙ্গার চেষ্টা, ইহুদি মুসলিম ঝগড়া, উহুদ যুদ্ধে নিজ সৈন্য নিয়ে মুসলমানদের থেকে সটকে পড়া, আহযাবের যুদ্ধে ইহুদিদেরকে উস্কে দেওয়া, কাফেরদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করা, আম্মাজান আয়েশা রা. এর নামে অপবাদ রটানো! কোথায় ছিল না ইবনে উবাই?

তার এসকল হঠকারিতা আর গাদ্দারিতে অতিষ্ঠ ছিল সকল সাহাবা, এমনকি তার আপন ছেলে হুজায়ফা রা. ও। পুত্র হয়েও তিনি আপন পিতার পথ রোধ করেছেন! মদিনায় ঢুকতে বাধা দিয়েছেন। এমনকি তার গাদ্দারী আর নবীজীর সাথে বেয়াদবীর কারণে হত্যা পর্যন্ত করতে চেয়েছেন! কিন্তু নবীজি সা. থেকে অনুমতি মিলেনি মুনাফিক বাবার হত্যার।

হযরত ওমরের রা. মত সাহাবী এই নরাধমের ক্ষেত্রে অনেক ধৈর্য্য ধারণের পর তাকে হত্যার জন্য একবার রাসূল সা. এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করলেন যে, অনুমতি হলে এই মুনাফিকটার গর্দান উড়িয়ে দিই। রাসূল সা. তখন স্পষ্ট ভাষায় বললেন যে, ‘তখন মানুষ বলাবলি করবে, মুহাম্মাদ এখন নিজ সাথীদেরকে হত্যা করা শুরু করেছে।’

প্রিয় পাঠক! স্বজাতীর সাথে এত এত গাদ্দারি, বেঈমানী, নেফাকি করা সত্ত্বেও রাসূল সা. তাকে কেন ছেড়ে দিলেন? কেন তাকে বারবার সুযোগ দিলেন? এখানে কি আমাদের ভাববার কিছু নেই?! চিন্তার কোন খোরাক নেই?! আছে, আদর্শবান উম্মতের জন্য
রাসূল সা. এর উক্ত কথা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। সে সময়কার ইহুদি খৃষ্টানরা জানত যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মুসলমানদের কেউ নয় , তথাপিও মহানবী সা. তার বাহ্যিক সুরতের উপর তাকে হত্যা করতে বারণ করছেন, বলছেন যে, ‘মানুষ বলাবলি করবে….।

তাহলে আজ আমাদের কি হল যে, আমরা একে অপরকে তুচ্ছ বিষয়ে হজম করতে পারছি না?! আপন তুল্য ভাইয়ের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষোদগার করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত?! আমি ফেসবুকে কতিপয় মাওলানা, মুফতির স্ট্যাটাস দেখে মর্মাহত যে, হাটহাজারী প্রসঙ্গে তারা দেশের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বিদেরকে তুলোধুনো করছে, কেউবা আবার ফরিদাবাদ সম্পর্কে থলের বেড়াল বের করার নামে আপন আপন শ্রদ্ধেয় শায়খদের ব্যাপারে যা- তা লিখে যাচ্ছে, পক্ষে বিপক্ষে জঘন্য মিথ্যাচার করে যাচ্ছে আসতাগফিরুল্লাহ! আসতাগফিরুল্লাহ!!

প্রিয় মাওলানা বন্ধু! আপনি জানেন কি ফেসবুক এক দুই জনের প্লাটফর্ম নয় বরং শত কোটি মানুষের অবিচ্ছিন্ন এক প্লাটফর্ম? নিশ্চয় আপনার জানার কথা যে, ফেসবুকে মাদ্রাসাওয়ালারা একা নয় বরং সারা দুনিয়ার সকল কিসিমের মানুষের অবাধ বিচরণ এখানে? আস্তিক নাস্তিক, স্কুল কলেজ ভার্সিটি, মুসলিম অমুসলিম, দেশি বিদেশি সবাই এখানে যুক্ত এটা আপনার অজানা থাকার কথা নয়। সুতরাং এখানে যদি মাওলানা সাহেব মাওলানা সাহেবের বিরুদ্ধে চোর, বাটপার, ধোঁকাবাজ, গাদ্দার, ক্ষমতালোভী, সরকারের পা চাটা গোলাম ইত্যাদি জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, তাহলে কি সারা দুনিয়ার মানুষের কাছেই কুরআন হাদিস পড়ুয়া বা পড়ানেওয়ালাদের চরিত্র প্রকাশ পেয়ে যায় না? সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গাটা নষ্ট হয়ে যায় না?! মাদ্রাসা বিরোধীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত টার্নিং পয়েন্ট পেয়ে যায় না?! সকল বাতিল শক্তি মাদ্রাসাগুলোর দুর্বল স্থান চিহ্নিত করে না?! হুজুর জাতি নিয়ে যারা ট্রল করে তাদের ট্রল শতভাগ সত্যি হয় না?! তাহলে ফেসবুকে এসে মাওলানা সাহেবরা একে অপরের বিরুদ্ধে বলে কার প্রতিনিধিত্ব করছেন?! নিশ্চয়ই এটা আদর্শ নবীর আদর্শিক প্রতিনিধিত্ব নয়।

নবীর তথাকথিত ওয়ারিশরা যদি তাঁরই আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করত তাহলে আজ আপামর জনতা ইসলাম ও মুসলমানদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাত না। হুজুর জাতী নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করত না। আমরাতো পারতাম নবীজির সেই মহান চেতনাকে লালন করতে, যেটা তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের ক্ষেত্রে করেছিলেন, কিন্তু পেরেছি আমরা?! মোটেও না; বরং আমরা সেই মহান আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে মহানবীর আদর্শকে গলা টিপে মেরে যা যা করেছি তা হলো-

১। সফেদ শুভ্র কাপড়ের ভিতর থাকা কালো কালো কিছু দোষ বিশ্ব বাসীর সামনে উন্মোচিত করেছি।
২। গোটা দ্বীনকে বিধর্মীদের সামনে কাঠগড়ায় দাঁড় করতে পেরেছি।
৩। ইসলাম বিদ্বেষীদের সামনে মহান এ ধর্মে কালিমা লেপে দিয়েছি।
৪। জনসাধারণকে মসজিদ মাদ্রাসা থেকে বিমুখ হওয়ার পথ দেখিয়েছি।
৫। যারা বিপদাপদে মাদ্রাসাকে নিজেদের ঈমান ও আমলের আশ্রয়স্থল বিবেচনা করত তাদের ভরসাস্থলকে গলা টিপে মেরেছি।
৬। নতুন প্রজন্মের নিষ্পাপ তালিবে ইলমদের বেয়াদবীর মত জীবনবিধ্বংসী দীক্ষায় দীক্ষিত করছি।
৭। দ্বীনের নামে প্রচলিত সকল বাতিল শক্তিকে উত্থানের পথ বাতলে দিচ্ছি।
৮। সাধারণ মুসলমানদের চোখের হিরো থেকে ভিলেনে পরিণত হচ্ছি।
৯। জেনারেল শিক্ষিত ভাই বোন যারা নিজেদের সন্তানদের কুরআন হাদিস পড়াতে আগ্রহী তাদেরকে মাদ্রাসা বিমুখী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছি।
১০। সবশেষে চলমান ঘটনাসমূহের ওযাহাতের নামে সবাইকে এই বার্তা দিতে চাচ্ছি যে, গীবত, মিথ্যা, পরনিন্দা ইসলামে জায়েজ আছে (নাউজুবিল্লাহ)।

সুতরাং পাঠক! আমাদের সব অনিষ্টের গোড়া কিন্তু নববী আদর্শে অটল অবিচল না থাকা। তাহলে আর দেরি কেন! আসুন ফিরে যাই নববী আদর্শে।

লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *