ফের অস্থিরতা শেয়ারবাজারে

ফের অস্থিরতা শেয়ারবাজারে

পাথেয় ডেস্ক : দেশের শেয়ারবাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। টানা পতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। টানা ছয় দিন দরপতনের পর ৪ আগস্ট ডিএসইএক্স ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে আসে। দরপতন ঠেকাতে টেনে তোলা হয় শেয়ারবাজারের সূচক।

৫ ও ৮ আগস্ট সূচক কিছুটা বাড়ে। তবে সোমবার থেকে আবার সূচক কমতে থাকে। বুধবার বড় দরপতন হয়েছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৩ মাসের মধ্যে সর্বনিু অবস্থানে নেমে যায়। বুধবার ডিএসইর প্রধান সূচক ৭৫ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৩৩ পয়েন্টে অবস্থান করে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ডিএসইএক্স দশমিক ৭১ পয়েন্ট বেড়েছে। চলতি মাসের নয় কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ১৩৭ পয়েন্ট।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কারসাজি ছাড়া বাজারের এ হঠাৎ পতনের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তারা বলেন, বর্তমানে বাজারে বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আবারও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ফলে ক্রেতার অভাব রয়েছে। একদিকে ক্রেতার অভাব, অন্যদিকে টানা পতনে আতঙ্কিত হয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির প্রবণতা বেড়ে গেছে। এতে করে বাজারে টানা দরপতন চলছে।

তারা আরও বলেন, সূচকের ৫ হাজার পয়েন্টের সীমাকে শেয়ারবাজারে মনস্তাত্ত্বিক সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে সূচকটি কমে ৫ হাজারে নেমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বিনিয়েগিকারীরা বলছেন, কিছুদিন পর পর বাজারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের ঘটনা ঘটছে। স্বাভাবিক নিয়ম ও যৌক্তিক কারণে যে কোনো সময় যে কোনো শেয়ারের দামের উত্থান-পতন হতেই পারে। কিন্তু বাছবিচার ছাড়া সব ধরনের শেয়ারের দাম কমে যাওয়া কখনও বাজারের স্বাভাবিক আচরণ হতে পারে না। সাধারণ চোখে বাজারের অস্বাভাবিক আচরণ চোখে পড়লেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ বিনিয়োগকারীদের।

শেয়ারবাজারে বুধবার বড় দরপতনের পর বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের সামান্য উত্থান হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। মূল্য সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ১৫৮ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ১৩৭টির। আর ৫৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় দশমিক ৭১ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৩৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাকি দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ এক পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১৫৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৭৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

দিনের লেনদেন শেষে সব সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও লেনদেন শুরুর চিত্র ছিল ভিন্ন। লেনদেনের প্রথম আধাঘণ্টার চিত্র বড় পতনের আভাস দিচ্ছিল। বেলা ১১টার দিকে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৩০ পয়েন্ট পড়ে যায়। এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় বাজার।

লেনদেনে অংশ নেয়া একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় বাড়তে থাকে মূল্য সূচক। এদিন দাম বাড়ার তালিকায় সব থেকে বেশি দাপট দেখিয়েছে প্রকৌশল ও বীমা খাত। প্রকৌশল খাতের ২৫টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ১২টির দাম। আর বীমা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমছে ১৪টির। মূল্য সূচক ও বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়লেও এদিন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। দিনভর বাজারে লেনদেন হয়েছে ৪০৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫০২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৯৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা। বাজারে টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে জেএমআই সিরিঞ্জের শেয়ার। কোম্পানিটির ২১ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ২০ লাখ টাকার। ১৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মুন্নু জুট স্টাফলার্স।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- মুন্নু সিরামিক, স্টাইল ক্রাফট, লিগাসি ফুটওয়্যার, বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল, ওয়াটা কেমিকেল, সিলকো ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯৮২ পয়েন্টে। বাজারে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৪১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৮৯টির, কমেছে ১১৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টির দাম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *