আন্তর্জাতিক ডেস্ক ● ফরাসি নির্বাচনের শীর্ষ দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে তাদের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ম্যারিন লা পেনের প্রচারণায় বাধা দেয়া হয় ফরাসি সাংবাদিকদের। অপর প্রার্থী ইমানুয়েল ম্যাক্রন রাশিয়ান গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করেছেন। এতে উভয় মিডিয়া মহল থেকে তোপের মুখে পড়েছেন দুই প্রার্থী। ফ্রান্সের দ্য লোকালের খবরে বলা হয়, ৩০টিরও বেশি ফরাসি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিক প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানিয়ে এক পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। তারা বলছেন, কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী ম্যারিন লা পেনের দল ন্যাশনাল ফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী প্রচারণা কভারে সংবাদকর্মীদের সীমিত সুযোগ দিচ্ছেন।
ন্যাশনাল ফ্রন্টের প্রচারণা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বাদ দেয়া এবং দলের প্রার্থী লা পেনের কাছে পৌঁছাতে না দেয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনার পর এই পিটিশন আনা হয়েছে। পিটিশনে বলা হয়েছে, ‘দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রচারণায় কোনো কোনো মিডিয়াকে ম্যারিন লা পেনের প্রচারণা কভার করার সুযোগ দেয়া হবে তা বেছে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাশনাল ফ্রন্ট। বেশ কয়েকটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে কোনো প্রকার তথ্য পাওয়ার থেকে বাদ রাখা হয়েছে বা দলটির প্রার্থীকে অনুসরণ করার সম্ভাবনা বাতিল করা হয়েছে।’ পিটিশনে বার্তা সংস্থা এএফপি’র সাংবাদিকরাসহ লা মন্ডে ও লা ফিগারো ডেইলিস-এর মতো বড় ফরাসি মিডিয়ার সম্পাদকীয় কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়াও টিএফ১, বিএফএম টিভি চ্যানেল ও ফ্রান্ড ইনফো রেডিও’র প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছেন। পিটিশনে বলা হয়েছে, ‘আমাদের সংবাদ উপস্থাপনের দায়িত্ব পালনে এই প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কোনো রাজনৈতিক কাঠামো, সেটা যেই হোন না কেন, তাদের এ সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নেই যে সমাজে কোন কোন মিডিয়া গণতান্ত্রিক ভূমিকা চর্চার সুযোগ পাবে।’ ওদিকে, ৭ মে রানঅফ নির্বাচনে লা পেনের প্রতিদ্বন্দ্বি অপর প্রার্থী ইম্যানুয়েল ম্যাক্রনের বিরুদ্ধেও সাংবাদিকদের বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ান গণমাধ্যমগুলো বলছে এ সপ্তাহে তাদের ম্যাক্রনের অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। আরটি টিভির প্রধান সম্পাদক মার্গারিটা সিমোনিয়ান বলেন, তার প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচনের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রচারণা কভার করতে বাধা দেয়া হয়েছে।
ম্যাক্রন শিবিরের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, রাশিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত স্পুতনিক চ্যানেল, আরটি টিভি ও ভিডিও এজেন্সি রাপ্টলিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রয়টার্সকে তিনি বলেছেন যে, এ চ্যানেলগুলো ‘দ্বিমুখী সংগঠন’। ম্যাক্রন মুখপাত্র আরও বলেন, এই সংবাদ মাধ্যমগুলোর ‘বানোয়াট সংবাদ ও ভুল তথ্য উপস্থাপনের খায়েশ রয়েছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করাটা একটা সমস্যা।’ এই সিদ্ধান্তে যদি ক্রেমলিনের সঙ্গে সমস্যা সৃষ্টি হয় তাহলে ম্যাক্রন নির্বাচিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা ম্যাক্রন শিবিরের এ সিদ্ধান্তকে ‘আউটরেজিয়াস’ আখ্যা দিয়েছেন। জাখারোভা বলেন, মস্কো এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘একজন প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থীর তরফে রাশিয়ান মিডিয়ার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ও নির্লজ্জ বৈষম্য’ হিসেবে দেখছে ‘যে দেশ কিনা বাক-স্বাধীনতার প্রশ্নে ঐতিহাসিকভাবে সতর্ক।’ প্রসঙ্গত, গেল গত বুধবার রিপোর্টার্স ইউদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, গণমাধ্যম স্বাধীনতা বর্তমানের মতো এমন হুমকির মুখে কখনও ছিল না। আরএসএফ তাদের বার্ষিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক প্রতিবেদনে, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা ও বৃটেনের ব্রেক্সিট গণভোট প্রচারণাকালীন গণমাধ্যমের ওপর ‘অত্যন্ত বিষাক্ত’ সমালোচনা হওয়ার কথা উল্লেখ করে।


