১. আরেক হেমন্ত
বহতা পদ্মার মত বয়ে যায় প্রমত্ত সময়
সময়ের কাঁধে চড়ে ছুটি দূর গন্তব্য পানে
প্রিয়তমার নিখুত সৌন্দর্য ছোঁব বলেই কি অনন্ত এই পথযাত্রা
গভীর জীবন বোধ নিঃশাসে নিঃশাসে তাড়া করে বেড়ায়।
হৃদয়ের খোলা পাতায় আঁকা আছে কিছু দৃশ্যপট
ভাবনাহীন এক উঠোনের গল্প
এক পৃথিবী হেঁটে আসার পর আমি দেখলাম সেই আগের মতই বীজ পড়ে আছে
কৃষকরা মাঠের আইলে বসে আছে নীরব ধ্যানে
এরই ভেতর বাংলাদেশ হয়ে ওঠে পৃথিবীর সমান
তোমার সৌন্দর্য ছাড়িয়ে যায় স্বর্গের রমণীদের সব রূপ লাবন্যে
আমার বুভুক্ষু চোখের কোটরে শুভ্র সপ্নের বিভোরতা
সময়গুলো আমাকে অমর করে রাখতে স্থির হয়ে যায়
আবার যখন চোখ তুলে তাকাই আমার দিগন্তে
দেখি কতগুলো রাজহাসের ডানা
বাতাসে ওড়ে হেমন্তের শুকনো পাতা
অতলান্ত আদর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চারপাশ
অবহেলার চোখ মুখ শুকিয়ে আরেকটি হিম হেমন্ত যেন।
২. দলিত পাপড়ির রাঙা পল্লব
চলো আগুন যুবক, জ্বালো দাবানল
ঐ দেখ পুড়ছে সাগর, নদী, শস্য ক্ষেত্র, পর্বত, বাগান, মাঠ প্রান্তর আর দিগন্ত জোড়া।
বিভীষিকায় উড়ছে প্রেম,
হাওয়ায় ভাসছে তরতাজা রাগ অনুরাগ।
চিত্তের বিত্ত, হৃদয়ের বৈভব, দ্রোহের সম্ভাবনা, চরম সত্য একেক করে বিস্মৃতির অপেক্ষায় প্রহর গোণে,
শুধুই রাজনীতি আর প্রবঞ্চনা দখল করে আছে সব গলি ঘুপচি।
রাজপথে নমরুদের মত আগুন জ্বালো অগ্নি মানব
ইবরাহীম নয় এবার নমরুদকেই জ্বলতে হবে লেলিহান শিখায়
কিছু একটা করতে হবে এই এখন, এই পাথর সময়ে,
কোথাও গিয়ে থামতে হবে চলতে চলতে চিন্তিত নেতৃবৃন্দ।
এই নষ্ট ভ্রষ্ট শতাব্দী,
নিঙড়িয়ে বের করে আন এর সবটুকু প্রাণ
অভিধান খুলে দেখ-
নীতি নৈতিকতা বলে কোন শব্দ কোথাও নাই
পৃষ্ঠাগুলো শাদা পাতা হয়ে আছে,
শুদ্ধতার কথা ভুলে গেছে মানব সভ্যতা বহু যুগ আগে
কোথাও শুভ্রতা পাবে না এ পৃথিবীর কোন জলবাতাসে।
ফুলগুলো সব দলিত করো নিষ্ঠুরভাবে ইস্পাত পুরুষ-
এ আমার আন্তরিক নির্দেশ;
কিন্তু পুরো ঢাকা শহরে একটি ফুলও নাই;
ফুলের দোকানগুলো উজাড় হয়ে গেছে
পুষ্প বৃক্ষ প্রাণহীন শুকনো পাতায় ভরা,
কেবল কতগুলো কণ্টকে আচ্ছাদিত এই জনপদ।
আমার ইচ্ছে হয়,
ছোট্ট একটা সুগন্ধ ছড়ানো গোলাপ হয়ে চুপচাপ নির্জন পথের ওপর পড়ে থাকি;
এই শহরবাসী আমাকে পদদলিত করে এগিয়ে যাক।
সমস্ত শহরের ভার বহন করুক আমার অবসাদগ্রস্ত আত্মা,
তাদের পায়ের নীচে আমার গোলাপি রক্ত একটু শীতল স্পর্শ দিয়ে যাবে;
অস্থির সময়ের অন্তর ছুয়ে যাক দলিত পাপড়ির রাঙা পল্লব।


