পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে যেভাবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ঠিক সেই স্বপ্নকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। আমাদের জাতির পিতা দেশ স্বাধীনের পরে সাড়ে তিনবছর সময় পেয়েছিলেন এই অল্প সময়ের মধ্যে তিনি এই দেশটাকে স্বপ্নের সেনার বাংলা হিসেবে বাস্তবায়নের জন্য যেখানেই গিয়েছেন সেখানে দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার কথা বলেছেন।
মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে মুজিব জন্মশতবর্ষ ও বিজয় মাস উপলক্ষ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু-নীলদলের আয়োজিত ‘মুজিব জন্মশতবর্ষে বিজয় দিবস: সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক ভার্চুয়্যেল আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আল জাবিরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ধর্ম মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ত্রিশালের সাংসদ আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন মাদানী, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান।
মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীন আখতার। এ ছাড়া নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর জালাল উদ্দিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. নজরুল ইসলাম, বিভাগীয় প্রধান ড. সুব্রত কুমার দে, ড. মাহবুবুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. হুমায়ুন কবীর, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম, প্রক্টর উজ্জল কুমার প্রধান, শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি, বঙ্গবন্ধু-নীলদলের শিক্ষকবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্টমন্ত্রী আরো বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে রোল মডেল সৃষ্টি করেছে। ২০০৮/০৯ সালের দিকে দেশ বিরোধীরা জঙ্গি হামলা, বিদেশিদের হত্যা, পুরোহিত ইমামদের উপর হামলা করে এ দেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়ার মতো রাষ্ট করতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার মেধা দিয়ে এসব দমন করে বিশ্বের দরবারে এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
মুখ্য আলোচক প্রফেসর ড. শিরীন আখতার তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরে দেশের অবস্থার কথা স্মরণ করেছেন। তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধের বিচার, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানসহ উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার উন্নয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং অগ্রসরের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করার ওপরে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জ্বীবিত হয়ে সকলের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতির আলোকে স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ছাড়া আলোচকদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, বাঘা যতীনের ভাস্কর্যসহ দেশের নানা স্থানে ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে। আলোচকবৃন্দ অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে এ জাতীয় হীন কাজের নিন্দা জানিয়ে সকলকে সম্প্রীতির বাংলাদেশ নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের ইতিহাস, পাকিস্তানের শোষণ, মুক্তিসংগ্রামের নানা ঘটনা, বাংলাদেশের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ এবং অবদান, স্বাধীনতা, বিজয়ের ইতিকথাসহ সমসাময়িক বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনায় দেশের উন্নয়ন সমৃদ্ধি অব্যহত রাখতে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ভূমিকা রাখার জন্য সকলকে আহ্বান জানান।
/এএ


