বজ্রপাতে ৮ জেলায় ১৬ জনের মৃত্যু

বজ্রপাতে ৮ জেলায় ১৬ জনের মৃত্যু

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কুমিল্লার দুই উপজেলায় চারজন, কিশোরগঞ্জের দুই উপজেলায় তিনজন,ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় ৩ জন, নেত্রকোনায় ২ জন, মাদারীপুর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও চাঁদপুরে একজন করে মারা যান।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার বরুড়া ও মুরাদনগর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে দুই স্কুলছাত্রসহ চারজন নিহত ও আহত হয়েছেন একজন। তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুরের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোরবানপুর পূর্বপাড়া কবরস্থানের পাশের মাঠে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হন। তারা হলেন- উপজেলার দেওড়া গ্রামের জসিম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে জুয়েল ভূঁইয়া (৩৫) ও কোরবানপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়া (কালীবাড়ি) এলাকার মৃত বীরচরণ দেবনাথের ছেলে নিখিল দেবনাথ (৬০)।

এ ছাড়া দুপুরে বরুড়া উপজেলার খোশবাস ইউনিয়নের পয়ালগুচ্ছ গ্রামে বজ্রপাতে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো- ওই এলাকার মৃত খোকন মিয়ার ছেলে ফাহাদ হোসেন (১৩) এবং আব্দুল বারেক মিয়ার নাতি সায়মন হোসেন। তারা দু’জনই স্থানীয় বড় হরিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ত।

স্থানীয়রা জানান, হালকা মেঘলা আবহাওয়ায় মাঠে ঘুড়ি ওড়ানোর সময় আকস্মিক বজ্রপাতে এ দুই স্কুলছাত্র মারাত্মক আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দুই হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম ও মিঠামইনে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে অষ্টগ্রামের হাওরে ধান কাটতে গিয়ে দুই কৃষক ও মিঠামইনে নিজের খলায় ধানের খড় ঢাকতে গেলে বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- অষ্টগ্রামের কলমা ইউনিয়নের হালালপুর গ্রামের মৃত যতীন্দ্র দাসের ছেলে ইন্দ্রজিত দাস (৩৫), খয়েরপুর-আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামের ইদ্রিছ মিয়ার ছেলে স্বাধীন মিয়া (১৪) ও মিঠামইনের কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মৃত আশ্রব আলীর স্ত্রী ফুলেছা বেগম (৬৫)।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় বজ্রপাতে রিমন তালুকদার (২২) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার আটগাঁও গ্রামের বুড়িগাঙ্গাল হাওরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিমন তালুকদার শাল্লা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতোই সোমবার সকালে গরুকে ঘাস খাওয়াতে বাড়ির পাশের বুড়িগাঙ্গাল হাওরে যান রিমন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই বজ্রপাতের শিকার হলে ঘটনাস্থলেই রিমন ও তার সাথে থাকা গবাদিপশুর মৃত্যু হয়।

চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুরের কচুয়ায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে হার্ট অ্যাটাক করে বিশকা রানী সরকার (৪৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার উত্তর কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের নাহারে গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বিশকা রানী সরকার উপজেলার ৩ নম্বর ইউনিয়নের নাহারা গ্রামের পূর্বপাড়া মন্দির ওয়ালা বাড়ির হরিপদ সরকারের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বেলা সাড়ে ১১টায় হরিপদ সরকার ও তার স্ত্রী ধানের জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাতের শব্দে বিশকা রানী সরকার মাটিতে পড়ে যান। পরে স্বামী হরিদাস সরকার তাকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে মাদরাসা শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার মধ্য রাতে জেলার কলমাকান্দার গোবিন্দপুর গ্রামে ও সোমবার সকালে মদন উপজেলার তিয়শ্রী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- কলমাকান্দার নাজিরপুর ইউনিয়নের ধুনন্দ গ্রামের বাসিন্দা দিদারুল ইসলাম। তিনি উপজেলার গোবিন্দপুর বাজার এলাকায় স্থানীয় একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।

অন্য দিকে আরাফাত মিয়া (৯) মদন উপজেলার তিয়শ্রী গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। সে নিজ গ্রামের বাইতুল জান্নাত হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী।

চৌগাছায় বজ্রপাতে তিন গরুর মৃত্যু

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা জানান, যশোরের চৌগাছায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের তিনটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের দক্ষিণ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নারায়নপুর গ্রামের কৃষকরা পতিত জমিতে ঘাস খাওয়ার জন্য ১০-১২টি গরু বেঁধে রাখেন। হঠাৎ মেঘ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত হলে গ্রামের মৃত আবু বক্করের ছেলে সাইফুল ইসলামের একটি গাভী ও একটি বাছুর এবং নারায়ণপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আজিজুর রহমানের একটি এঁড়ে বাছুর মারা যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সোমবার বিকেলে বজ্রপাতে মানিক মিয়া (৬২) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন হানিফ মিয়া (৬০) নামে অপর এক কৃষক।

উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বাঞ্ছারামপুর থানার উপপরিদর্শক ফারুক আলম জানান, জমিতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মানিক মিয়া ও হানিফ মিয়া বজ্রপাতের শিকার হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাদের হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মানিক মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাদারীপুর জেলার রাজৈরে বজ্রপাতে কাজল বাড়ৈ (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কাজল ওই গ্রামের জ্ঞান বাড়ৈর ছেলে।

জানা গেছে, বিকেলে নিজের জমিতে ধান কাটছিলেন কৃষক কাজল বাড়ৈ। এসময় বৃষ্টি ও বাতাস শুরু হয়। একপর্যায়ে বজ্রপাত হলে গুরুতর আহত হন কাজল। পরে গুরুতর আহত কাজলকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আদিল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

Related Articles