বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে তুরস্কের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে তুরস্কের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার পাশাপশি শিল্প কারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও আরও বেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসা এবং এই দেশের যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. ওমের বলাতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান।

বাংলাদেশকে বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনার কারখানা পরিচালনার জন্য আমাদের তরুণদের ব্যবহার করুন, যাতে আপনারা এই অঞ্চলে পণ্য সরবরাহ করতে পারেন।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে উল্লেখ করে এ ব্যাপারে তিনি তুরস্কের সহায়তা চান। তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণদের সুযোগ দিতে আমরা আপনার সহায়তা চাই। এটি আমার দেশের জন্য আপনাদের কাছে আবেদন।’

অধ্যাপক ইউনূস তুরস্কের প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের অনেক কিছু করার আছে। কিছু ক্ষেত্রে আমরা আপনার সমর্থন, আপনার প্রযুক্তি এবং আপনার বিনিয়োগ চাই।’

তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনারা প্রযুক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন; আপনারা এখানে প্রতিরক্ষাশিল্প গড়ে তুলতে পারেন। আসুন একটি সূচনা করি… আমরা আপনাদের যে কোনো প্রয়োজনের জন্য প্রস্তুত।’

প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও তুরস্ক পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি স্বপ্নের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ। আমরা এটি সব ক্ষেত্রে প্রসারিত করতে চাই।’

বাংলাদেশ ও তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা পোশাক শিল্পের বাইরে প্রসারিত করতে পারে উল্লেখ করে তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. ওমের বলাত বলেন, আমরা প্রতিরক্ষাশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ এবং কৃষি যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারি।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা ভারতের মতো বাজারগুলোকে প্রতিস্থাপন করতে পারি এবং বাংলাদেশে আমদানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারি। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সব স্তরে সহযোগিতা হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে পারি।

উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ৫৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর আমদানি ছিল প্রায় ৪২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বর্তমানে তুরস্কের প্রায় ২০টি বড় কোম্পানি বাংলাদেশে বস্ত্র ও পোশাক এবং আনুষঙ্গিক পণ্য, রাসায়নিক, প্রকৌশল, নির্মাণ এবং জ্বালানি খাতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা গত আগস্টে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের সঙ্গে তার টেলিফোন আলাপের কথা স্মরণ করেন। এরপর অক্টোবর মাসে তুরস্কের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বিডার চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles