বিশ্ব শ্রমবাজার থেকে শত বিলিয়ন ডলার আয় করবে বাংলাদেশ

বিশ্ব শ্রমবাজার থেকে শত বিলিয়ন ডলার আয় করবে বাংলাদেশ

বিশ্ব শ্রমবাজার থেকে শত বিলিয়ন ডলার আয় করবে বাংলাদেশ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: বৈশ্বিক করোনাকালীন দুর্যোগের মধ্যেও বাংলাদেশ রেমিট্যান্স আয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্যের পরিচয় দিয়ে চলেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের রেমিট্যাস অগ্রযাত্রাকে আরো এগিয়ে নিতে সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন শ্রমবাজার তৈরির রোডম্যাপ করেছে। সরকার আশা করছে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ব শ্রমবাজার থেকে একশত কোটি বিলিয়ন ডলার আয় করতে সক্ষম হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, আফ্রিকা অঞ্চলের চারটি দেশে ৪০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ। এই রোডম্যাপ সফল করতে কমপক্ষে একডজন দূতকে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী ইমরান আহমদ। কূটনৈতিক এই চিঠিতে কর্মসংস্থান তৈরিতে দূতদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। সূত্র থেকে জানা গেছে, সুদানে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের ওপরে সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে গবেষণা করে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের জন্য উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় খাত সংক্রান্ত একটি প্রশংসনীয় প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। প্রতিবেদনটি গত ২০ জানুয়ারি ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সেমিনার পেপারে উপস্থাপন করা হয়।

সুদানে এরই মধ্যে কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, জর্ডান, ইয়েমেন, লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ কৃষি জমি লিজ নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় ওই চিঠিতে। এতে আরও বলা হয়, দেশগুলো লিজ নেওয়া জমিতে খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য কৃষিজ ফসল আবাদ করার জন্য নানামুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ওই কৃষি প্রকল্পে বাংলাদেশি কৃষক ও কর্মী পাঠানোর নতুন সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার তৈরির জন্য দেশগুলোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, জর্ডান, ইয়েমেন, লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ একাধিক দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের কাছে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়ে বিদেশে দেশীয় শ্রমবাজার সৃজনে সহযোগিতা চেয়েছেন মন্ত্রী ইমরান আহমদ।
চিঠি পাওয়া রাষ্ট্রদূতদের একজন বলেন, ‘প্রবাসী মন্ত্রী জানিয়েছেন যে সুদানে অনেক দেশ কৃষি খাতে বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে কৃষি বিষয়ক প্রচুর দক্ষ কর্মী রয়েছেন। তাই যেসব দেশ সুদানে কৃষিকাজ করছে, তারা যেন বাংলাদেশি কর্মীদের কাজে লাগায়, সেটি নিশ্চিত করতে মন্ত্রী যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।’ এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘এরই মধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত সুদানের দূতের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তাদের ওখানে সুযোগ আছে। আমরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।’

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বিদেশে নতুন শ্রমবাজার তৈরির ক্ষেত্রে আফ্রিকা অঞ্চল নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে পরিকল্পনা করছে সরকার। আফ্রিকা অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ একাধিক বিষয়ে সুযোগ-সুবিধা কম থাকায় পররাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সেখানে যেতে চান না। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী সাফল্য নিশ্চিত করতে হলে আফ্রিকা অঞ্চলে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথ পাড়ি দিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে যুক্ত হওয়ার জন্য ‘রূপকল্প ২০৪১’ শীর্ষক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। বিদেশে নতুন শ্রমবাজার তৈরির রোডম্যাপটি এই ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *