বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা উপেক্ষা করা দুর্ভাগ্যজনক

বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা উপেক্ষা করা দুর্ভাগ্যজনক

বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা উপেক্ষা করা দুর্ভাগ্যজনক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পরামর্শ করে একটি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার পর তা উপেক্ষা করা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এটা আশার কথা যে, পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাগ্রহে সমন্বিত পদ্ধতির বদলে গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে এ বছর থেকেই। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করবে- এমন ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় ভর্তি পদ্ধতি থেকে সরে আসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বুধবার কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতির কথা জানান।

সভায় ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপাচার্যদের প্রতিনিধি এবং ইউজিসি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমমনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চারটি গুচ্ছে ভাগ করে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। সাতটি কৃষিপ্রধান বিশ্ববিদ্যালয়, ১১টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, তিনটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নয়টি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়কে গুচ্ছ পদ্ধতির আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া তিনটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় ও টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নেবে। ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেছেন, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হবে।

সবারই জানা, সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। কিন্তু পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মগর্বী শিক্ষকদের কারণে গণদাবি থাকা সত্ত্বেও সেই পরামর্শ রক্ষা করা হলো না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাষ্ট্রপতির পরামর্শ উপেক্ষা করার সুযোগ পেয়েছে যেহেতু এগুলো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সেই ক্ষমতাবলে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসনের প্রতি অখ- শ্রদ্ধা রেখেই রাষ্ট্রপতির পরামর্শ অগ্রাহ্য করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে চাই। এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের ভাবা উচিত ছিল, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও এগুলো পরিচালিত হয় দেশবাসীর ট্যাক্সের টাকায়। সে ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখালেই নৈতিকতার দিক থেকে যথার্থ বলে বিবেচিত হতো।

সংশ্লিষ্ট পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের ‘মান’ নিয়ে আত্মগর্বে ভুগলেও দেশবাসীর জানা, দুনিয়ার হাজার সেরা মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। আমরা এ ক্ষেত্রে মনে করি, সবারই ভেবে দেখা উচিত, শিক্ষার মান রক্ষার বদলে শিক্ষকদের একাংশ অন্য কিছুতে ব্যস্ত থাকায় এ অধঃপতিত অবস্থা কিনা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *