বে-টার্মিনাল : আধুনিক বন্দরের যাত্রা

বে-টার্মিনাল : আধুনিক বন্দরের যাত্রা

বে-টার্মিনাল : আধুনিক বন্দরের যাত্রা

মো: জাহাঙ্গীর আলম খান : বে-টার্মিনাল নির্মাণে অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত প্রায় ৮৯০ একর জমি ছাড়াও সমুদ্র থেকে ভূমি পুনরূদ্ধার করার পর জমির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২৫০০ একর। বে-টার্মিনালের তুলনামূলক সুবিধাদির মধ্যে বন্দর নির্মাণের অবস্থানগত উপযুক্ততা, জাহাজ চলাচলের জন্য উপযুক্ত নাব্যতা এবং পশ্চাৎভূমির সাথে সড়ক ও রেলপথের যোগাযোগ সুবিধা অন্যতম।

চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান জেটিসমূহে ৯.৫০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ ভিড়ানো সম্ভব হয়। বে-টার্মিনাল নির্মিত হলে ১০ থেকে ১২ মিটার গভীরতাসম্পন্ন জাহাজ অনায়াসে বার্থিং করতে পারবে।

বহিঃনোঙর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং নেভিগেশন চ্যানেলের প্রশস্থতা মাত্র ২৫০-৩০০ মিটার। কর্ণফুলী চ্যানেলটি খুবই আঁকা-বাঁকা থাকায় জাহাজ চলাচলে ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে। পক্ষান্তরে বে-টার্মিনাল থেকে বহিঃনোঙ্গরের দূরত্ব মাত্র ১ কিলোমিটার। চ্যানেলের প্রশস্থতা ৮০০-১২০০ মিটার। জাহাজ মুভমেন্ট এবং হ্যান্ডলিং অধিকতর ঝুঁকিমুক্ত থাকবে। তাছাড়া বে-টার্মিনাল চ্যানেলে কোনো বাঁক নেই তাই ১৯০ মিটার এর অধিক দৈর্ঘ্যের জাহাজ ভিড়ানো সম্ভব হবে। পণ্য মূল্যও কমে যাবে যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে জোয়ারের সময়ে ১ নং জেটি থেকে এনসিটি পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৬-১৭টি জাহাজ বার্থিং করা সম্ভব হয়। পক্ষান্তরে বে-টার্মিনালে ৩০-৩৫ টি জাহাজ একই সময়ে বার্থিং করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে ১ নং গেট থেকে এনসিটি পর্যন্ত অপারেশনাল এরিয়ার পরিমাণ প্রায় ৪০০ একর। পক্ষান্তরে, বে-টার্মিনালের জন্য প্রায় ৮৯০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। সমুদ্র থেকে ভূমি পুনরুদ্ধার করার পর জমির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২৫০০ একর যা চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশনাল এরিয়ার প্রায় ছয় গুণ।

চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের কানেকটিভিটি চট্টগ্রাম নগরীর মধ্য দিয়ে। বে-টার্মিনাল পোর্ট এক্সেস রোড এবং ছয় লেনবিশিষ্ট সার্কুলার সড়কের মাধ্যমে বে-টার্মিনালের কানেকটিভিটি নগর ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে। নদীপথে ঢাকামুখী লাইটার জাহাজ চলাচলেও বে-টার্মিনাল হতে যোগাযোগে ৪-৬ ঘণ্টা দূরত্ব কমে যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর ১৩২ বছরের পুরানো। গত শতাব্দীর আশির দশক পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর প্রায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। তার বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে একটি বে-টার্মিনাল পরিকল্পিতভাবে এবং আর্ন্তজাতিক মানের হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির প্রধান গেটওয়ে। চট্টগ্রাম বন্দরের অগ্রগতি ও স্থবিরতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায় জাতীয় অর্থনীতিতে। তাই চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক সচল রাখা এবং ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করাই হচ্ছে বন্দরের সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ।
তাই বাংলাদেশকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশে পরিণত করতে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ জরুরি। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারপ্লান প্রণয়ন করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বে-টার্মিনালের যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তার নির্মাণকাজ শেষে অপারেশনে গেলে দেশের অর্থনীতির চাকা আরও বেগমান করবে বলে আশা করা যায়।

লেখক : কলামিস্ট

২৬.১১.২০১৮

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *