পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেছে ১২৪৬ জন পাসপোর্টধারী। এ সময় ভারতের সঙ্গে ৩৭৬ ট্রাক পণ্যের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য হয়েছে। এতে ভ্রমণ খাতে সরকারের প্রায় ১১ লাখ টাকা আর বাণিজ্য খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, শনিবার বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিনিময়ে মিলেছে ৭৫ ভারতীয় রুপি এবং ভারতীয় ১০০ রুপিতে বাংলাদেশি টাকা পাওয়া গেছে ১৩২ টাকা। প্রতি ইউএস ডলারের ক্রয় মূল্য ছিল ১২৫ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১২৬ টাকা।
বন্দরের তথ্য মতে, বেনাপোল ও পেট্রাপোল মধ্যে সকাল ৯টা থেকে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়। এবং বাণিজ্য শেষ হয় রাত ১০টায়।
শনিবার দিনভর ভারত থেকে আমদানি হয় ২৭৬ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য এবং ৩২টি ট্রাক চ্যাচিজ। অন্যান্য আমদানি পণ্যের তালিকায় ছিল শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিকেল, শিশু খাদ্য, মেশেনারিজ দ্রব্য, অক্সিজেন ও বিভিন্ন প্রকারে ফল, চাল, পেঁয়াজ ও মাছসহ বিভিন্ন পণ্য।
একই দিনে বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে ১০০ ট্রাক। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা টিসু, মেলামাইন, কেমিকেল মাছ ও ওয়ালটন পণ্য সামগ্রী।
জানা গেছে, ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় কারণে বেনাপোল স্থলপথে পাট, পাটজাত দ্রব, তৈরি পোশাক, কাটের তৈরি আসবাবপত্রসহ কয়েকটি পণ্য রফতানি হয় না। দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় সুতাসহ কয়েকটি পণ্য আমদানি সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বন্ধ আছে।
এদিকে, শনিবার বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত পচনশীল জাতীয় আমদানি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাক প্রতি ভাড়া ছিল ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা, খুলনা ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ও বরিশাল ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা।
তবে পচনশীল জাতীয় কাঁচামাল ছাড়া অনান্য পণ্য পরিবহণে বেনাপোল বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রাক প্রতি ভাড়া ছিল ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা,খুলনা ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা ও বরিশাল ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা বলে ট্রান্সপোর্ট সূত্রে জানা গেছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুই দেশের একের পর এক বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞায় আমদানি-রফতানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
তিনি আরও জানান, এক বছর ধরে বন্ধ দুদেশের বাণিজ্য বৈঠক। এতে দুদেশের ব্যবসায়ীরাই বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে গত বছরে তার আগের বছরের চেয়ে দেড় লাখ টনের বেশি পণ্য আমদানি কমেছে। এবং চলতি অর্থবছরের গেল ৬ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১২ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে।
বাণিজ্যে পরিবেশ ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ইমিগ্রেশন তথ্য জানান, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬টা থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে শুরু হয় পাসপোর্টধারী যাতায়াত। একজন পাসপোর্টধারীকে ভারত ভ্রমণ করতে ১২ বছরের ঊর্ধ্বে পাসপোর্টধারীদের ভ্রমণ কর ১০০০ টাকা এবং বন্দর কর ৬১ টাকা বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হয়। ৫ বছর থেকে ১২ বছরের নিচে যাত্রীদের ৫৬১ টাকা এবং ৫ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে কেবল মাত্র বন্দর কর ৬১ টাকা দিতে হয়। ক্যানসার, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভ্রমণ কর মাত্র ৬১ টাকা।
এছাড়া চলতি মাস থেকে নতুন করে ভারত অংশে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি ও ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীদের ভ্রমণ কর গুনতে হচ্ছে ৪০০ রুপি ও বিদেশিদের ৮০০ রুপি।
শনিবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট যাতায়াত করেছে ১২৪৬ জন। এদের মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে ৬২০ জন। এসব যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ৪২৬ জন, ভারতীয় ছিলেন ১৮৪ জন। অন্য দেশের ছিলেন ২ জন।
এ সময় ভারত থেকে ফিরেছে ৬২৬ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশি ৫০৯ জন ও ভারতীয় ছিল ১১৭ জন । ৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতায় পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমে যায়।
এদিকে, বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, রেলপথে এসিআই মটরস নামে আমদানিকারকের কেবল ভারত থেকে ট্রাকটর আমদানি হয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রেলে অন্যান্য পণ্যের আমদানি এবং ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।


