পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গত ১৫ দিনে বিভিন্ন দেশ থেকে বিমানযোগে বাংলাদেশে ফিরেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এমন লোকের সংখ্যা আট হাজার ৭৬৭ জন। অথচ বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল নাগাদ হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে মাত্র ১৪ জন প্রবাসফেরত ব্যক্তি। এর বাইরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোনো হাসপাতালে কেউ আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেই।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রবাসফেরতদের একটি তালিকা ধরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তাদেরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) থেকে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এদিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা না মানায় জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামে একজনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাউতলীর বাসিন্দা প্রবাস ফেরত এক ব্যক্তিকে পুলিশের মাধ্যমে ধরে এনে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলায় আখাউড়ায় আগামী রবিবারের ত্রিবেণী মেলা উপলক্ষে কোনো ধরণের মেলা না বসার আহবান জানিয়ে বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে মাইকিং করা হয়েছে। খড়মপুরের শাহপীর কল্লা শহীদ মাজার শরীফ কমিটির পক্ষ থেকে এ মাইকিং করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোট ১৪ জনকে হোম কোয়ান্টোইনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে জেলার আখাউড়ায় পাঁচ জন, আশুগঞ্জে চারজন, সদরে চারজন ও কসবায় একজন। তাদের প্রত্যেককে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে অনেকেই এ নির্দেশনা মানছেন না। আবার অনেকে এলাকায় থাকলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন বলে ঘরের বাইরে দিন কাটিয়ে রাতে বাসায় ফিরছেন।
এদিকে গত ৮ মার্চ ওমান থেকে দেশে ফেরা বাঞ্ছারামপুরের এক যুবক হোমকোয়ারেন্টাইন না মেনে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাসির উদ্দিন সারোয়ার প্রবাস ফেরত ওই ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম বুধবার বিকেলে বলেন, ‘বিমানযোগে বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবাসীদের তালিকা আমরা পেয়েছি। ওই তালিকা থেকে তাদেরকে খুঁজে বের করে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। যে কারণে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) থেকে হোমকোয়ারেন্টাইন অনেক বেড়ে যাবে।’
তিনি আরো জানান, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আরো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে মাঠ পর্যায়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে হোমকোয়ারেন্টাইন আরো জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে আমরা সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহবান জানাচ্ছি।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিমানযোগে প্রবাসফেরতদের তালিকা পেয়েছি। নির্দেশনা মোতাবেক ওই তালিকা জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক থানার ওসিকে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।


