ভারতে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অবস্থা বেসামাল হয়ে পড়েছে ভারতে। বিশেষত আসাম, ত্রিপুরা, কলকাতা, মুর্শিদাবাদে, হায়দারাবাদে চলছে বিক্ষোভ। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ থেকে সহিংসতারও রূপ নিচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের মুসলিম নেতারা।
দিল্লি জন্তরমন্তরে জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ মাদানী বিক্ষোভ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মুসলিম যুবকদের শান্তি বজায় রাখতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, এটি কষ্টের, শীঘ্রই মুসলিম সম্প্রদায় এ থেকে বেরিয়ে আসবে। যে মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন করতে আমাদের সাহসের পাশাপাশি ধৈর্য প্রদর্শন করতে হবে।
ভারতের জমিয়তে উলামা হিন্দ ভারতীয় জনতা পার্টি ও আরএসএসকে মোকাবেলার ক্ষমতা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন গণগ্রন্থাগার মন্ত্রী ও পশ্চিম বাংলা জমিয়ত সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যে কোনো আন্দোলন করতে হবে শান্তিপূর্ণভাবে।
ভারতে সদ্যপ্রণীত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে যে প্রক্রিয়ায় আন্দোলন চলছে তার তীব্র বিরোধিতা করেছেন মুসলিম বিশিষ্টজন ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
মুসলিম নেতাদের প্রত্যেকেই জানান, ক্ষোভের জায়গা যা-ই থাকুক, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অন্যায়। গণতান্ত্রিক উপায়ে বিরোধিতা নিশ্চয়ই করতে হবে। কিন্তু সহিংসতার পথ বেছে নেওয়া চলবে না।
ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর কথায়, “কেন্দ্রের নাগরিকত্ব আইন মানুষ মেনে নিতে পারছেন না। তাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে তারা প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু শুক্রবার থেকে রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় যে পদ্ধতিতে ট্রেনে পাথর ছোড়া, স্টেশন মাস্টারের ঘরে আগুন জ্বালানো থেকে শুরু করে বাসে আগুন জ্বালানো হয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না।
ত্বহার আবেদন, আন্দোলন অবশ্যই করুন। কিন্তু দয়া করে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। এমন হিংসাত্মক আন্দোলন করলে যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হচ্ছে সেই রাজনৈতিক দলই সুবিধা পাবে।
রাজ্যের সমস্ত মানুষের প্রতি অল ইন্ডিয়া মিল্লি কাউন্সিলের রাজ্য সভাপতি ফজলুর রহমানের আবেদন, “কারও প্ররোচনায় পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করুন। নচেৎ আন্দোলনের গতিপথ নষ্ট হবে।”
জামায়াতে ইসলামি হিন্দের রাজ্য সভাপতি মৌলানা আবদুর রফিকের কথায়, এই আইনের বিরুদ্ধে জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলন করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনে সহিংসতার আশ্রয় নিলে কখনও ভাল ফল আসতে পারে না।
বেঙ্গল ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহম্মদ ইয়াহিয়া জানান, “বিজেপি সরকারের ধর্মীয় বিভাজনের নয়া আইনের বিরোধিতা করে মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু আন্দোলন করতে গিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা আন্দোলনের গতিমুখটাই বদলে দেবে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন-এর রাজ্য কমিটির সদস্য মৌলানা নিজামুদ্দিম কাশেমি বলেন, নয়া নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে যারা হিংসাত্মক ঘটনা ঘটাচ্ছেন, তারা ঠিক করছেন না। আমাদের দল এই ধরনের আন্দোলনের অনুমতি দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আন্দোলন করবেন না কেউ।
প্রবীণ অধ্যাপক ওসমান গনির পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় মুসলিমদের এই করুণ পরিণতি দেখে আমার ঘুম নষ্ট হয়েছে।
মানুষ অনেক কষ্টে, যন্ত্রণায় নয়া নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু আন্দোলনকারীদের প্রতি আবেদন, শান্তির সঙ্গে গঠনমূলক আন্দোলনের পথ বেছে নিন। আন্দোলনের গতিমুখ নষ্ট হলে আন্দোলনকারীদেরই ক্ষতি হবে।
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মীরাতুন নাহার বলেন, ব্যক্তিগতভাবে নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরোধী। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে এই নয়া আইনের প্রতিবাদ-আন্দোলন আত্মঘাতী আন্দোলনে পরিণত হচ্ছে। স্বতঃস্ফূর্ত, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন না হলে কেন্দ্রীয় সরকার এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কাজে লাগাবে।


