পাথেয় রিপোর্ট : ভারতের ঝাড়খণ্ডে গরু জবাইয়ের অভিযোগে কলন্টাস বার্লা নামে আদিবাসী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এক প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে উন্মত্ত জনতা। রোববার ওই ঘটনায় কলন্টাস বার্লা, ফাগু কচ্ছপ ও ফিলিপ হোরো নামে তিন জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সে ভর্তি করা হলে সেখানে কলন্টাস বার্লার (৩৪) মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে। এদের বেশকিছু ব্যক্তি উগ্রহিন্দুত্ববাদী ‘বজরং’ দলের সঙ্গে যুক্ত বলা হচ্ছে। তাদের মুক্তি দেয়ার দাবিতে কমপক্ষে দেড়শ’ গ্রামবাসী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে নির্দোষ ব্যক্তিদের মুক্তির আশ্বাস দিয়ে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে শান্ত করে ফেরত পাঠাতে সমর্থ হয়।
আহত ফাগু কচ্ছপ গরু জবাইয়ের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, সে নিজ পশুকে বাঁধতে যাচ্ছিলেন। এসময় লোকেরা তাঁকে ধরে মারধর শুরু করে। পুলিশ যদি সময়মত ঘটনাস্থলে না পৌঁছত তাহলে প্রাণ হারাতে হতো।
সোমবার পুলিশের ডিআইজি এভি হোমকার গণমাধ্যমকে বলেন, ঝাড়খণ্ডের খুঁটিতে গতকাল নিষিদ্ধ গোশত বিক্রির সন্দেহের জেরে গ্রামবাসীদের মারধরের ফলে এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে এবং দু’জন গুরুতর আহত হয়েছে। এব্যাপারে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের জন্য টিম গঠন করা হয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই ঘটনার তদন্তে পুলিশ সেখান থেকে মৃত গরু খুঁজে পায়নি। কিন্তু জনতার দ্বারা মানুষজনকে মারধরের প্রমাণ অবশ্যই পাওয়া গেছে।
গত ১৭ জুন চোর সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাবরেজ আনসারি নামে এক মুসলিম যুবককে। তাঁকে এসময় ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে বাধ্য করা হয়। ওই ঘটনার ভিডিও গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় দেশ জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গণমাধ্যমের একটি সূত্রে প্রকশ, গত তিন বছরে চুরি, শিশু চুরি ও গরু জবাইয়ের অভিযোগে মারমুখী জনতার হামলায় ঝাড়খণ্ডে ২১ জন নিহত হয়েছেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে রাজ্যে এপর্যন্ত জাদুবিদ্যা প্রয়োগ (ডাইনি) সন্দেহে ৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।


