পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের কর্ণাটকের চমরজগড়ে একটি মন্দিরের প্রসাদ খেয়ে ১১জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে ৮২জন। খবর এনডিটিভির।
কর্ণাটকের এই মন্দিরে উপাসনার সময় যে প্রসাদ দেয়া হয়েছে তাই খেয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় নিউজ চ্যানেল।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার রাজ্যের চমরাজনগর জেলার সুলিবাদি গ্রামের কিচু মারাম্মা নামের মন্দিরে ঘটেছে এ ঘটনা। জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার দাবি, খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত কিছু মিশিয়ে দেওয়ার কারণেই এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। ওই খাবারের নমুনা বিশ্লেষণের জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি বলছে, গত শুক্রবার কর্ণাটক রাজ্যের চমরাজনগর জেলার মারাম্মা নামের ওই মন্দিরে ঘটনাটি ঘটে। ওই মন্দিরে উপাসনার সময়ে দেওয়া প্রসাদ খেয়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো ধারণা করছে, মন্দিরের ওই খাবারগুলো বিষাক্ত ছিল।
এ ঘটনায় দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। অসুস্থদের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮২ জনের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে কর্তব্যরত এক পুলিশ জানায়, সুলাওয়াড়ি গ্রামের এক মন্দিরের শুক্রবার মূর্তি প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানের পর প্রসাদ বিতরন চলছিল। প্রসাদ খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন মন্দিরের ভক্তরা। দ্রুত অসুস্থদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া শুরু করতেই রাস্তাতে তিন মহিলা-সহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে জেলা কর্তৃপক্ষ। ওই জেলা প্রশাসনের আধিকারিক জানান, ‘কোনও ভাবে প্রসাদের সঙ্গে বিষ মিশে গিয়েছে। আমরা প্রসাদ পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করেছি।’
অনুষ্ঠানের আয়োজকের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা টমেটো ও ভাত খেতে দিয়েছিলাম। তবে এ থেকে গন্ধ আসছিল। যারা এটা ফেলে দিয়েছে তারা ভালো আছে, তবে যারাই খেয়েছে তারাই বমি করা শুরু করে পেট ব্যথা করার কথা বলতে থাকে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, প্রসাদ থেকে কেরোসিনের গন্ধ আসলেও ভক্তরা প্রসাদ হিসেবে দেওয়া ভাত খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের পেট ব্যথ্যা ও বমি শুরু হয়।
এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক জানিয়েছে। এছাড়া নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।


