নিজস্ব প্রতিবেদক ● দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মাসিক আয় ২০ হাজার টাকার নিচে থাকা রাজধানীবাসীর অধিকাংশই এখন ভালো নেই। ঢাকা শহরে ২০ হাজার টাকা নিচে মাসিক আয় ঠিক কতো এর সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমানে ঢাকাতে প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস। এর বড় অংশেরই আয় ২০ হাজার টাকার নিচে।
শুধু ঢাকা শহরে একটি অংশ নয় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে দেশের অসংখ্য মানুষের। বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে ৩ লাখের ওপর শ্রমিক রয়েছেন যারা নূ্যূনতম মজুরিভুক্ত। যাদের বেতন ১০ হাজার টাকার নিচে। এসব শ্রমিকদের অধিকাংশেরই প্রতিদিন এক বেলা অনাহারে কাটাতে হয়। আর সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তাদের সেই কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয় ও ব্যয় জরিপ- ২০১০ অনুযায়ী, খানা প্রতি মাসিক জাতীয় গড় আয় ১১ হাজার ৪৮০ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয়ের পরিমাণ ১১ হাজার ২০০ টাকা। ২০০৫ সালে খানা প্রতি আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ২০৩ টাকা ও ৬ হাজার ১৩৪ টাকা। এই হিসেবে ২০০৫ সালের তুলনায় ২০১০ সালে আয় বাড়ে ৫৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ব্যয় বাড়ে ৮২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ২০১০ সালের পর বিবিএস থেকে আর কোন খানা আয় ও ব্যয় জরিপের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ২০০৫ সালের তুলনায় ২০১০ সালে যে হারে আয় ও ব্যয় বৃদ্ধি পায়, সেই হার ধরলে বর্তমানে খানা প্রতি মাসিক আয় অনুমানিক ২০ হাজার টাকার নিচে। অপরদিকে খানা প্রতি মাসিক ব্যয়ের পরিমাণও প্রায় ২০ হাজার টাকা। এদিকে বর্তমানে দেশে দারিদ্রের হার কমে দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানা আয় ও ব্যয় জরিপ- ২০১০ অনুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে দারিদ্রের হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে। তার আগে ২০০৫ সালে এই হার ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে প্রতি পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১০ শতাংশ হারে দারিদ্রের পরিমাণ কমেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৬ টাকা কেজি। মোটা চালের দাম ৫০ টাকার ওপরে। খোলা আটার কেজি ২৮ থেকে ৩০ টাকা। চাল, আটার এমন দামের সঙ্গে কাঁচাসবজির দামও বেশ চড়া। রাজধানীর বাজারগুলোতে ৬০ টাকা কেজি দরের নিচে কোনো সবজি পাওয়া এখন দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাঁচা মরিচের দামও ছুঁয়েছে ২০০-২৫০ টাকা কেজি। একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন মো. সোহেল হোসেন। মাস শেষে কোম্পানি থেকে বেতন-ভাতা সবকিছু মিলিয়ে পান ১৪ হাজার টাকা। এর বাইরে তার বাড়তি আয়ের আর কোনো সুযোগ নেই। এ টাকা দিয়েই চার সদস্যের পরিবারের সংসার খরচ চালাতে হয় সোহেলকে। চাল, সবজিসহ নিত্য পণ্যের যে দাম তাতে প্রতিমাসেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। আর সাম্প্রতিক সময়ে চাল, সবজির লাগামহীন ঊর্ধ্বমুখিতায় অনেকটাই নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা সোহেলের। শুধু মো. সোহলে নয় রাজধানীতে বসবাস করা একটি বড় অংশেরই জীবনযাত্রার চিত্র এটি।
যাত্রাবাড়ি চাল আড়তের বিক্রেতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, বর্তমানে চালের যে দাম বাড়েছে আমার ২০ বছরের ব্যবসায় এমন চিত্র কখনো দেখিনি। ৬ মাস আগেও যারা ৫০ কেজি চালের বস্তা কিনতে এখন তারা ২০ থেকে ২৫ কেজি করে চাল কিনছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়ে মোটা চলের বস্তার পরিমাণ কমিয়ে ২৫ কেজিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। আগে কখনো মোটা চল ৫০ কেজি নিচের বস্তা বিক্রি হয়নি। শুধু মিনিকেট ও বাসমতি চাল ২৫ কেজির বস্তা বিক্রি করা হতো। কিন্তু ক্রেতাদের চাল কেনার পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে মোট চালও ২৫ কেজি বস্তা করতে বাধ্য হয়েছেন।


