ভয়ঙ্কর উগ্রবাদের পদচারণা
আবদুর রহমান কোব্বাদী : গত কয়েকদিন আগে আমার এক বন্ধুবর ফোন করে কিছুটা আক্ষেপের সূরে পরামর্শ চাইলেন। কয়েকদিন আগেও তার ছোট ভাই তাকে বড় ভাইয়ের মর্যাদায় রেখে পরামর্শ মেনে চলতো। মা-বাবার আনুগত্যশীল সন্তান ছিল।
কিন্তু রমজানে কোন এক অজানা গোপন সংগঠনের তারবিয়্যাহ নিয়ে বে-তারবিয়ত হয়ে গেছে।
এখন নিজস্ব উগ্র-আকিদা বিরুদ্ধ হওয়ায় আলেম বড় ভাই ও মা বাপের সামনে ওয়াজ করছে- ‘লা ত-‘আতা লি মাখলূকিন ফি মা’সিয়াতিল খালিক’।
তার গুরুরা ঢাকার কয়েকটি মাদরাসার নাম বলে সেগুলোর যে কোন একটিতে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
তাহলে কি তারা টার্গেট করে আমাদের শত বছরের ঐতিহ্য মাদারিসে কওমিয়াগুলোকে উগ্রতার মারকাজ বানাতে চাচ্ছে? এতে কি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আদৌ কোন সচেতনতা আছে?!
সেসব মাদ্রাসার শূরা মুরুব্বীরা মুহতামিম সাহেব আমাদের জাতীয় অনেক বড় বড় পদেমাসীন রয়েছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা ঘটে গেলে পুরো কওমী অঙ্গনটাই বিতর্কিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাহলে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ কোথায়?
বিপথগামী চেতনাবাজদের বিরুদ্ধে সচেতন আলেমদের কার্যকরী প্লাটফর্ম না হলে অতীতের মতো আরো অনেক লাঞ্ছনার গ্লানি টানতে হতে পারে।
ওরা হাতুড়ে ডাক্তারের মতো সব রোগীকে এক ওষুধ দিয়ে রোগ সারাতে চায়। তাই তাদের কাছে কিতাল ছাড়া কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশের প্রথিতযশা সমস্ত আলেম-ওলামা তাদের কাছে ফুসসাক, ওলামায়ে সু।
মারাত্মক উগ্র মানসিকতায় বড় হচ্ছে আমাদের কিছু নবীন আলেম ও তালেবে ইলম। ওরা সব জায়গায় ওদের উগ্রতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিতে চায়।
ওরা শান্তিময় সহাবস্থান সহ্য করতে পারে না। ওদের কামনার শুধু বিশৃঙ্খলা রক্তপাত উত্তপ্ত পরিবেশ।
কিন্তু হাস্যকর হলেও সত্যি তাদের জেহাদের প্লাটফর্ম শুধুই ভার্চুয়াল জগত। প্রতিবাদ প্রতিরোধের প্র্যাকটিক্যাল কর্মসূচিতে তাদের কোনো অবস্থান নেই।
আমাদের প্রবীণ আলেমরা সচেতন না হলে এর খেসারত প্রবীন নবীন সবাইকেই দিতে হবে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুক!
লেখক : মাদরাসা শিক্ষক ও বিশ্লেষক


