মডার্নার ভ্যাকসিন বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে

মডার্নার ভ্যাকসিন বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে

মডার্নার ভ্যাকসিন বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভ্যাকসিন নিয়ে মাতামাতি চলছেই। কোন ভ্যাকসিনের ক্ষমতা কতটুকু তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। আবারও সুখবর দিল মডার্নার ভ্যাকসিন। করোনার সম্ভাব্য এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের দেহে এই ভ্যাকসিন যেমন কার্যকরী বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

মডার্নার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সম্ভাব্য ভ্যাকসিন বয়স্কদের দেহে তরুণদের মতোই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের সঙ্গে যৌথভাবে দেশটির বায়োটেক কোম্পানি মডার্নার সম্ভাব্য এই ভ্যাকসিন নিয়ে বেশ আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।

মডার্না বলছে, ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সীদের দেহে এই সম্ভাব্য ভ্যাকসিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ৫৬ থেকে ৭০ বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রেও।

মডার্নার এই বিশ্লেষণী তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজেজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনসন কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম ধাপে এই ভ্যাকসিন ১৩ হাজারের বেশি মানুষের দেহে প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশই শেতাঙ্গ, লাতিনো এবং আমেরিকান ইন্ডিয়ান।

ইতোমধ্যেই মার্কিন কোম্পানি মডার্নার তৈরি কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য এই ভ্যাকসিনটি চূড়ান্ত ধাপে ৩০ হাজার মানুষের দেহে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এর আগে করোনার সম্ভাব্য কোনো ভ্যাকসিন এত মানুষের দেহে পুশ হয়নি। মডার্নার দাবি, বছর শেষেই তাদের ভ্যাকসিন সবাই ব্যবহার করতে পারবে।

কোনো রোগের ভ্যাকসিন বা টিকা তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণত অনেকগুলো ধাপ পার হতে হয়। চূড়ান্ত ধাপে হাজার হাজার মানুষের দেহে গণহারে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ মূলত দেখা হয় সবার ব্যবহারের জন্য তা কার্যকর ও নিরাপদ কিনা। সফল হলেই ভ্যাকসিনটি গণমানুষের জন্য ব্যবহারের অনুমোদন দেয় কর্তৃপক্ষ।

মডার্নার সম্ভাব্য এই ভ্যাকসিনটির পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে দেশটির ৮৯টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে মডার্নার ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে।

মডার্নার ভ্যাকসিনের সম্ভাব্য অগ্রগতির কথা আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল। প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় স্বেচ্ছাসেবীদের দেহে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তা নিরাপদ বলেও প্রমাণিত হয়েছে। চূড়ান্ত ধাপের এই বৃহৎ পরীক্ষা আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বৃহৎ পরিসরে এই ট্রায়াল শুরুর বিষয়টি নিয়ে মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ‘ট্রায়ালটি হতে হবে সব বয়সের, সব জাতির অর্থাৎ সব ধরনের মানুষের ওপর। আমরা চাই এর ফলাফল যেনো যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার যে বৈচিত্র তার প্রতিনিধিত্ব করে। এর মাধ্যমেই দেখা হবে ভ্যাকসিনটি সবার জন্য কার্যকর ও নিরাপদ কিনা।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *