পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থগার মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে বাংলাদেশে প্রবেশের ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। এ নিয়ে দু’দেশেই নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে ভারতের দ্য প্রিন্ট-এর খবরে বলা হয়েছে, নানা ইস্যুতেই মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ বিতর্কিত হয়েছেন। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের তিনি কঠোর সমালোচক। তবে খোদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও সমালোচনা করেছেন তিনি।
প্রিন্টের খবরে বলা হয়, বিতর্কের প্রতি বরাবরই যেন বিশেষ আগ্রহ মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহর। তিনি সম্প্রতি দাবি করেছেন, ৫ দিনের সফরে তিনি বাংলাদেশে আসতে চাইলেও বাংলাদেশ সরকার তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছেন, মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহর আবেদন ঢাকায় বিশেষ অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বঙ্গোপাধ্যায়ের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা বলেছেন, ‘ মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ সাহেবকে ভিসা না দেওয়ার খবরে আমরা স্তম্ভিত। বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত গেছে। তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা। আমাদের সরকারের একজন মন্ত্রী। তার এই পদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো উচিত ছিল।’
২৬ ডিসেম্বর ঢাকা ও সিলেটে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিল মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহর। তবে ২৫ তারিখে তিনি দাবি করেন, তার আবেদন নাকচ হয়েছে। বৃহস্পতিবার দ্য প্রিন্টকে তিনি বলেন, এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বঙ্গোপাধ্যায়কে তিনি চিঠি লিখেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কাজে ও পারিবারিক কারণে বেশ কয়েকবার গেছেন। কিন্তু গত কয়েক দশকে এই প্রথম তার ভিসা আবেদন নাকচ হয়েছে। তাও কোনো স্পষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই।
তার ভাষ্য, ‘দুই বাংলার মধ্যে যে বন্ধুত্ব রয়েছে, বাংলাদেশ তার প্রতি অবমাননা করেছে। শুধু তা-ই নয়, পশ্চিমবঙ্গের একজন মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে অবমাননা করেছে। অথচ, মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সবসময় নিজের বড় বোনের মতো দেখেছেন। আমি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার থেকে এই সফরের জন্য অনুমতি নিয়েছি। ফলে কোন অজুহাতে বাংলাদেশ আমাকে ভিসা দিলো না, আমি বুঝতে পারছি না। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে চিঠি লিখেছি। তাকে এ বিষয়টি দেখতে অনুরোধ জানিয়েছি। আমি অপমানিত হয়েছি ও হয়রানির শিকার হয়েছি।’
৬৫ বছর বয়সী এই প্রতিমন্ত্রী আশির দশক থেকেই সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় নেতা। তবে প্রায়ই বিভিন্ন মন্তব্যের জন্য তাকে সমালোচনা সইতে হয়েছে। খোদ নিজ দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাও তার অনেক মন্তব্যের তিরস্কার করে বলেছেন, সেগুলো দলীয় অবস্থান নয়।


