নিজস্ব প্রতিবেদক : সন্তান জন্ম দেয়ার সময় মায়েদের প্রতি অবহেলা ও অবজ্ঞার কারণে প্রজননক্ষম বয়সে (১৫-৪৯) নারীদের ১৩ শতাংশের মৃত্যু ঘটছে। গবেষকরা বলছেন, ২০ থেকে ৩৪ বছর বয়সী নারীরা বেশি মারা যাচ্ছেন মাতৃত্বকালীন জটিলতায়। এর বাইরে ক্যানসারে ২৪ শতাংশ এবং রক্ত সংবহনতন্ত্রজনিত কারণে ২৩ শতাংশ নারী মারা যাচ্ছেন। বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা জরিপ ২০১৬ : প্রাথমিক প্রতিবেদনে নারীদের মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে ২০০১ সালের জরিপে বলা হয়েছিল, ২০ শতাংশ নারীর মৃত্যুর কারণ ছিল মাতৃত্বসংক্রান্ত। ২০১০ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৪ শতাংশে। ছয় বছরের ব্যবধানে তা হয় ১৩ শতাংশ। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার ১৯৬। অর্থাৎ এক লাখ জীবিত শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে ১৯৬ জন মায়ের মৃত্যু হচ্ছে।
২০০১ সালের মাতৃমৃত্যু জরিপে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসবের হার ছিল মাত্র ৯ শতাংশ, ২০১০ সালে তা হয় ২৩ শতাংশ এবং ২০১৬ সালের জরিপে তা হয়েছে ৪৭ শতাংশ। আর এখন পর্যন্ত ৫৩ শতাংশ মায়ের অদক্ষ প্রসব সহায়তাকারীর হাতে অনিরাপদ প্রসব হচ্ছে। সারা দেশে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ন্যূনতম মানদ- পূরণ করছে মাত্র ৩ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র।
২০১০ সালের জরিপ অনুযায়ী প্রসবকালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ৩১ শতাংশ, খিঁচুনিতে ২০ শতাংশ, প্রসব জটিলতা বা দীর্ঘ সময় ধরে প্রসবের কারণে ৭ শতাংশ, গর্ভপাতের কারণে ১ শতাংশ, পরোক্ষ কারণ (হৃদরোগ, জন্ডিস ইত্যাদি) ৩৫ শতাংশ, সরাসরি অন্যান্য কারণ ৫ শতাংশ এবং অজানা কারণে ১ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হয়। ২০১৬ সালের জরিপেও দেখা যাচ্ছে, রক্তক্ষরণে ৩১ শতাংশ এবং খিঁচুনির কারণে ২৪ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হচ্ছে।
________________
patheo24,/105


