পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মাদারাসা থেকে ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনা কুমিল্লার চান্দিনায় মাদরাসাতুল আবরার নামে একটি কওমি মাদরাসার।
বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের নরসিংহপুর এলাকার ওই কওমি মাদরাসা থেকে ছাত্রদের বেডিং এর স্তূপের নিচ থেকে রায়হান হোসেন (১০) নামে ওই ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। নিহত রায়হান হোসেন পার্শ্ববর্তী ডুমুরিয়া গ্রামের রিকশাচালক মিজানুর রহমানের ছেলে।
নিহতের পিতা মিজানুর রহমান জানান, বুধবার সকাল ১১টায় মাদরাসা থেকে বাড়িতে এসে খাবার খেয়ে দুপুর ১টায় মাদরাসায় চলে যায়। সন্ধ্যায় মাদরাসার থেকে ফোন করে জানায়, আমার ছেলে মাদরাসায় যায়নি। পরবর্তীতে আমরা বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করাসহ আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। রাত সাড়ে ১০টার পর মাদরাসার একটি শিক্ষক আমার বড় ভাই মোস্তফা মিয়ার ফোনে কল করে আমাদের মাদরাসায় যাওয়ার জন্য বলেন। আমরা মাদরাসায় যাওয়ার পর ছাত্রদের বেডিং এর স্তূপের নিচে আমার ছেলের মরদেহ দেখান।
মাদরাসার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক কারি হারুনুর রশিদ জানান, সন্ধ্যায় আমরা হাজিরা ডাকার সময় রায়হানকে না পেয়ে খোঁজ নেই। তাকে না পেয়ে আমরা তার বাড়িতে খবর দিই। রাতে মাদরাসার ছাত্ররা ঘুমাতে যাওয়ার সময় বেডিং এর স্তূপ থেকে তাদের বেডিং নেওয়ার সময় ওই ছাত্রকে দেখে আমাদের ডেকে দেখান। কিন্তু কিভাবে ওই ছাত্রের মৃত্যু ঘটেছে আমরা বলতে পারছি না।
চান্দিনা থানার ওসি শামসউদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, খবর পেয়ে আমরা রাতেই ঘটনাস্থল থেকে নিহত শিশু ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিক্ষকসহ চারজনকে আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চান্দিনা ও দাউদকান্দি থানা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু সালাম চৌধুরী জানান, ঘটনার বিষয়টি জানার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং এখন পর্যন্ত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছি। তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

/এএ


