মানবতার মা

মানবতার মা

আমীনুল ইসলাম কাসেমী

বাংলাদেশ সরকারকে লক্ষ-কোটি সালাম ও ধন্যবাদ জানাই। ফিলিস্তিনের মজলুম মুসলমানের পাশে অকৃত্রিমভাবে দাঁড়িয়েছেন আমাদের সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য সকল মন্ত্রীগণ ফিলিস্তিনের মুসলমানদের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছেন। যেটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এমনকী ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের কাছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী চিঠি পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের পাশে আছে, এই মর্মে তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

ওদিকে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ঢাকাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে মোবারকবাদ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের এমন পদক্ষেপে ফিলিস্তিন সরকার খুবই খুশী। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রমজান তাই  যথার্থই বলেছেন, “শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনীদের হৃদয়ের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত সমর্থনের কারণে ফিলিস্তিনীরা তাঁকে অত্যন্ত ভালবাসে এবং শ্রদ্ধা করে।”

এ জন্য আমাদের এই সরকারকে ধন্যবাদ দেওয়া দরকার। বিশেষ করে, আমাদের আলেম সমাজের পক্ষ থেকে এবং যারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে  রাজপথে কথা বলছেন তাদের পক্ষ থেকে একটা ধন্যবাদ দেওয়ার বিশেষ প্রয়োজন। কেননা, সরকারের  ফিলিস্তিনের প্রতি আন্তরিকতার কারণে আমরা তাদের পক্ষে কথা বলতে পারছি। নির্বিঘ্নে রাজপথে ফিলিস্তিনের পক্ষে মিছিল-মিটিং করা সম্ভব হচ্ছে। নচেৎ আমরা এভাবে রাস্তায় নেমে ফিলিস্তিনি ভাইদের পক্ষে কথা বলতে পারতাম না।

আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনে একটি মেডিক্যাল টিম প্রেরণ করুনঃ বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলা হয় ‘মাদার অফ হিউম্যানিটি’ অর্থাৎ, ‘মানবতার মা’।  সত্যি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার মা। তিনি মানবতার উজ্জ্বল  দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।  ফিলিস্তিনের আহত-নিহত শিশুর জন্য তাঁর মন কেঁদে ওঠে বার বার। এর আগেও তিনি মহান সংসদে আহত-নিহত শিশুর কথা উপস্থাপন করে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। এমনিভাবে  ইসরাইলের বর্বর হামলায় যে সব মানুষ আহত হয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য আমাদের  বাংলাদেশ থেকে সুপ্রশিক্ষিত ডাক্তার এবং ঔষধপত্র পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আসলেই তিনি “মানবতার মা”। মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য তাঁর হৃদয় কেঁদে ওঠে। এ যেন নিজের সন্তান, নিজের ভাই-বোন। অসহায় মানুষের জন্য তিনি  নিজেকে বিলীন করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

এই পৃথিবীতে বহু রাষ্ট্র রয়েছে। যারা আমাদের দেশ থেকে বড়, উন্নত, এবং শক্তিধর। কিন্তু তারা যেন মানবতা কী জিনিস সেটা ভুলে গেছে। বিশ্বের বহু জায়গাতে মানবতা লঙ্ঘন হচ্ছে, কিন্তু অন্য কোনো রাষ্ট্রনায়কের মন ওভাবে কেঁদে উঠতে দেখা যায় না।  আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন তুলনাহীন। তিনি অসহায়-নির্যাতিত মানুষের পাশে দঁড়িয়েছেন বার বার।

প্রধানমন্ত্রীর মহান পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব যেভাবে বলতেন, বিশ্ব আজ দু’ভাগে বিভক্ত, শোষক আর শোষিত; এবং তিনি বলতেন, আমি শোষিতের পক্ষে। বঙ্গবন্ধু শুধু বলতেন-ই নয়, তিনি আমৃত্যু তাঁর কর্ম দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন হৃদয়ের গভীর থেকে বলা তাঁর কথাগুলো তিনি দৃঢ়ভাবে পালনও করতেন। যেমনঃ বঙ্গবন্ধু তাঁর আজীবন ফিলিস্তিন ও ফিলিস্তিনীদের প্রতি সার্বিকভাবে সহায়তা, সমর্থন ও সহমর্মিতা দেখিয়ে গেছেন।

ঠিক আমাদের প্রধানমন্ত্রী হুবহু যেন তাঁর পিতার উত্তরসূরী। বিশ্বে আজ দু’টো গ্রুপ, জালেম আর মজলুম। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মজলুমের পক্ষে। তিনি ফিলিস্তিনের মজলুম মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তাদের সেবার করার জন্য তাঁর হৃদয় কেঁদে উঠছে।

অনেক অনেক ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে কামিয়াব করুন। আমীন।

 

লেখকঃ কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক, চিন্তক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *