মানবতাশূন্য মসজিদ | মুহাম্মদ আইয়ূব
‘আর মসজিদগুলো হবে চাকচিক্যময় তবে তা থাকবে হেদায়েতশূন্য।’ (মেরক্বাত, খন্ড ১ হাদিস নং ২৭৬)
আমরা জানি মসজিদ আল্লাহর ঘর, পৃথিবীর সবথেকে দামী স্থান। একদিন ইসলামের দ্যূতি এই মসজিদ থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বময়। তাহলে নবীজী যে বলছেন মসজিদই হবে হেদায়েত শূন্য?
হ্যাঁ মহানবী( সাঃ) যথার্থই বলেছেন। ক্বেয়ামতের আগে শেষ জমানায় এমনই হবে মসজিদের অবস্থা। মসজিদ গুলো হেদায়েতশূন্য হওয়ার সাথে সাথে কিভাবে মানবতা শূন্য ও হয়ে যাচ্ছে সে গল্প-ই আজ আপনাদের শুনাব। প্রথমেই শুরু করা যাক হৃদয়বিদারক টাটকা এক সত্য ঘটনা দিয়ে।
গত মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারবাজার উপজেলায় লক্ষীপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামে জ্বর, গলাব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট কষ্ট নিয়ে সিলেটের এক ইটভাটার এ শ্রমিক মারা যান। করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ায় তার নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এরপর স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবারের লোকজন লাশ দাফনের উদ্যোগ নেয়। তবে লাশ বহনের জন্য গ্রামের মসজিদের খাটিয়া ব্যবহারে বাধা দেয় গ্রামবাসী। এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে কিছু দূরের কবরস্থানে মৃতের দুই ভাইসহ বাবা লাশ কাঁধে করে নিয়ে গিয়ে দাফন করেন। মৃত যুবকের বাবা বলেন, গ্রামের মেম্বারসহ কয়েকজন মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করতে দেননি। পরে বাধ্য হয়ে অন্য জায়গা থেকে খাটিয়া নিয়ে আসি, সেটিও তারা ব্যবহার করতে দেননি, তারা সেটি নিয়ে যায়।(bd news 24)
মানবতার বয়ান যেখান থেকে করা হয় সেখান থেকে খাটিয়া বের হয়না! আহ, বড় কষ্টের কথা!
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা অরডার্ন বিধর্মী হওয়া সত্ত্বেও ১৫ মার্চ ২০১৯ ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে বন্দুক হামলা হওয়ার পর মুসলমানদের জন্য তিনি যা করেছেন তা বিশ্ববাসীর কাছে অজানা নয় অথচ এই মেম্বারসাব মুসলিম হয়েও মসজিদের খাটিয়া নিয়ে কি নিষ্ঠুরতার পরিচয়টাই না দিলেন! নির্লজ্জতার কোথায় গিয়ে দাঁড়ালেন ভাবা যায়! আবার আল্লাহর ঘর মসজিদকে জাতীর সামনে করালেন প্রশ্নবিদ্ধ !
প্রিয় পাঠক! এবার বলুন, রাসূল সাঃ কি যথার্থ বলেন নি?
‘অধিকাংশরাই ফ্যামেলীর কথা চিন্তা করে কমিটির বেশি কথা, অত্যাচার সহ্য করে পাঁচ বছর, দশ বছর, বিশ বছর এক মসজিদেই মাটি কামড়ে পড়ে থাকে। এবার বলুন, হেদায়েত আর মানবতা কোত্থেকে আসবে?’
আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলব, একটি বাস্তব ও নির্মম সত্য কথা হল মসজিদ হেদায়েত শূন্য, মানবতাশূন্য হওয়ার দায় সরাসরি মসজিদ কমিটির ঘাড়ে বর্তাবে। কারণ সমাজের বড় বড় ঘুষখোর, সুদখোর, জুয়াখোর, মদখোর, দখলবাজ, নারীবাজ, ধান্ধাবাজ, লম্পটরা প্রায় সব মসজিদের কমিটিতেই আছে। আমি দুই বৎসর মসজিদের ইমাম ছিলাম। বিষয়গুলো খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।
হলফ করে বলতে পারি বাংলাদেশের ৯৫% ইমাম সাহেবরা কমিটির নাচের পুতুল। তাইতো ইমামতি, মিলাদ, দোআ দুরূদ, বিয়া পড়ানো, গরু কুরবানি, তাবিজ কবজ ছাড়া আর কোন জায়গাতেই ইমাম সাবদের ডাক পড়েনা। কমিটির ইশারার বাহিরে কথা বললেই চাকরিছাড়া করে। অধিকাংশরাই ফ্যামেলীর কথা চিন্তা করে কমিটির বেশি কথা, অত্যাচার সহ্য করে পাঁচ বছর, দশ বছর, বিশ বছর এক মসজিদেই মাটি কামড়ে পড়ে থাকে। এবার বলুন, হেদায়েত আর মানবতা কোত্থেকে আসবে?
মসজিদে দুনিয়াবি কথা বলা সম্পূর্ণ নিষেধ। অথচ আমার মসজিদে মাঝে মাঝে বাজার বসত। এর মূলহোতা ও ইজারাদার ছিল সহ সভাপতি। আমি প্রায় জুম্মার বয়ানে, দোআর আগে, নামাজের আগে তাঁকে ইন্ডাইরেক্টলি সতর্ক করতাম। এর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই ওয়াক্ত থাকত। আচ্ছা বলুনতো, বর্ষীয়ানরা যদি নিয়ম ভাঙ্গে তখন ছোটরা কি চুপ থাকে?
আমার মনে হয় মসজিদ কমিটি থেকে যতদিন পর্যন্ত এই ফালতু লোকদের ঝেঁটিয়ে বিদায় না করা হবে ততদিন পর্যন্ত মসজিদে হেদায়েত আর মানবতা ফিরবেনা। মসজিদে সুদিন ফেরার অপেক্ষায় থাকলাম।


