মাশরাফির জন্মদিন পালিত, আইসিসির শুভেচ্ছা

মাশরাফির জন্মদিন পালিত, আইসিসির শুভেচ্ছা

মাশরাফির জন্মদিন পালিত

আইসিসির শুভেচ্ছা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট ইাতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার জন্মদিন। ৩৬ বছর পেরিয়ে ৩৭ এ পা দিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। ১৯৮৩ সালে জন্মগ্রহণ করা টাইগার ক্রিকেটারের জন্মদিনে তাকে ‘কিংবদন্তি’ আখ্যা দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার কারিগর মহানায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার জন্মদিন ছিল ৫ অক্টোবর সোমবার। ৩৬ বছর পেরিয়ে ৩৭ এ পা দিলেন মাশরাফি।

নড়াইলের দুরন্ত সেই কিশোর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে খেলার স্বপ্ন পূরণ, দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেকে ভিন্নভাবে আবিষ্কার। এখানেই কি শেষ, না। এখন তিনি রাজনীতিতে। করছেন মানুষের সেবা। মাঠের পর এখানেও এক সফল মাশরাফির প্রতিচ্ছবি।

১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ে মহিষখোলা গ্রামে জন্মেছিলেন এই কিংবদন্তী ক্রিকেটার মাশরাফি। তিনি নড়াইলে কৌশিক নামেই সমধিক পরিচিত। ছোট বেলা থেকে দুষ্ট দুরন্ত দুর্বার।

স্কুলের ধরাবাঁধা পড়ালেখাতেও ছিলেন তুখোড়। তবে, বাঁধাপড়া জীবনে আটকে রাখতে পারতো না কেউই দুরন্ত কিশোরটিকে। তাই চিত্রা নদীতে তীব্র ঢেউয়ের বিপরীতে দুঃসাহসিক সাঁতারের পাল্লা মেতে উঠা কৌশিকের দেখা মিলতো প্রায়ই।
বিকেলে ফুটবলে আর সন্ধ্যায় ব্যাডমিন্টনের নেশা ছিল। কিন্তু, ধীরে ধীরে ক্রিকেটের প্রতি প্রেম বেড়েছে। প্রথমে ব্যাটিংয়ে আগ্রহ বেশি থাকলেও, কিশোর কৌশিকের বোলিংয়ে গতি ছিল চমৎকার। পাড়া মহল্লায় দারুণ আলোচিত হন। তার খেলা উপভোগে নড়াইলের মাঠে মাঠে মানুষের আগ্রহ থাকতো তুঙ্গে। এভাবেই নড়াইল জয় করে ঢাকায় আগমন ঘটে কৌশিকের।
বয়স ভিত্তি ক্রিকেটের বাঁধা টপকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিষেক ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এরপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যানভাসে কৌশিক থেকে সবার প্রিয় মাশরাফি বিন মর্তুজা হয়ে উঠা।

২০০৯ সালে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন। এরপর এলিট ফরম্যাটে আর ফেরা হয়নি। অপয়া ইনজুরির ঈর্ষায়। সাতবার গুরুত্বর অস্ত্রোপচার হয়েছে হাঁটুতে। কিন্তু, অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর আত্মবিশ্বাসের কারণেই মাশরাফি ফিরেছেন বার বার। অনেকটা ফিট থাকলেও, ২০১১ বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েছেন। বুক ছাপা কষ্ট সহ্য করেছেন। তারপরেও দমিয়ে রাখা যায়নি মাশরাফি থেকে হয়ে উঠা সবার প্রিয় ম্যাশকে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পাওয়ার লাল সবুজের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্যে এনে দিয়েছেন। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে দুইবার এশিয়া কাপের ফাইনাল ছাড়াও, তার নেতৃত্বেই প্রথম আরাধ্য বহুজাতিক ট্রফি জেতে বাংলাদেশ। ৮৮ ম্যাচে টাইগারদের নেতৃত্ব দিয়ে ৫০ ম্যাচে বাংলাদেশকে বিজয়ের উপলক্ষ্য এনে দিয়েছেন সবার প্রিয় ম্যাশ।

চলতি বছরের মার্চে অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন। কিন্তু, ক্রিকেট এখনো ছাড়েননি। আরো খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে মাশরাফির। বর্তমানে নড়াইল-০২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে সবার আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। প্রায় ২০ বছর দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *