মাহমুদ মাদানীর নির্দেশে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে মিলিয়ায় জমিয়তের প্রতিনিধি দল

মাহমুদ মাদানীর নির্দেশে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে মিলিয়ায় জমিয়তের প্রতিনিধি দল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানীর নির্দেশে সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনের জেরে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢুকে যেসব শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়েছে তাদেরকে দেখতে জামিয়ায় গিয়েছে জমিয়তে উলামা হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল।

জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি মাওলানা হাকিমুদ্দীন কাসিমীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা রিয়াজ আহমদ কাসেমী, ডা. আবু মাসঊদ, কারী আব্দুস সামী কাসেমী, মাওলানা রাকিম মুহাম্মাদ আরিফ কাসেমী প্রমুখ।

মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানীর বলেছেন, জমিয়তে উলামা হিন্দের পক্ষ থেকে আহত শিক্ষার্থীদের সেবা করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জমিয়ত ভাল-মন্দ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পাশে আছে, থাকবে।

এদিকে রোববার (১৫ ডিসেম্বর) গভীর রাতে দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের সামনে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ছিল ভারতের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়। রোববার দিল্লির জামিয়া এবং উত্তর প্রদেশের আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভ হয়েছে হায়দারাবাদের মৌলানা আজাদ, যাদবপুরসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আহত হয় অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে আটক করা হয় শতাধিক শিক্ষার্থীকে। আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে দিল্লি পুলিশের সদর দফতর ঘেরাও করে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল।

জামিয়ার ভাইস চ্যান্সেলর নাজমা আখতার পুলিশের কাজকে ‘নিন্দনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ওই আচরণে আমি দুঃখিত। আমি ছাত্রদের বলতে চাই ওই লড়াইয়ে তাঁরা একা নয়, আমিও তাঁদের সঙ্গে আছি।

এ প্রসঙ্গে ‘স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন’ (এসআইও)-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার এসআইও পশ্চিমবঙ্গ শাখার জনসংযোগ সম্পাদক ডাঃ নিয়াজুদ্দিন হুসাইনি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান এসআইও’র রাজ্য সভাপতি ওসমান গণি এব্যাপারে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে ছাত্র-ছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ব্যাহত করতে চায়। ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্র-ছাত্রীদের উপরে হামলা ভারতের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়।

তিনি এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পুলিশকে অবিলম্বে বরখাস্ত করতে হবে। ছাত্র সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নৃশংস পুলিশী তান্ডবের বিরুদ্ধে এবং সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে পথে নামার আহ্বান জানান তিনি।

গ্রন্থনা-অনুবাদ : আদিল মাহমুদ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *