মিয়ানমারকে প্রত্যাবাসনে বাধ্য করুন

মিয়ানমারকে প্রত্যাবাসনে বাধ্য করুন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নিজেদের অন্তর্কলহের চাপের বোঝা কেন বাংলাদেশ হবে? এটা হতে পারে না। বিশ্ব মোড়লগণ এত এত রোহিঙ্গাদের চাপ সইতে বাংলাদেশকে বাধ্য করা হচ্ছে বলেই আমরা মনে করি। এটা নিশ্চিত অমানবিক একটি কাজ। তা কোনোভাবেই হওয়া উচিত নয়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে পরবর্তী কয়েক মাসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। তারও আগে থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে রয়েছে। সব মিলিয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এ দেশে অবস্থান করছে।

সামগ্রিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন খুবই জরুরি। এ জন্য মিয়ানমার সরকারের ওপর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রেখেছে। নানামুখী তৎপরতার ফলে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে রাজি হয়, তবে তাদের আন্তরিকতা নিয়ে সব মহলের সন্দেহ রয়েছে। এরই মধ্যে প্রথম পর্যায়ের প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু তা হয়নি। মিয়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেনি। অনিরাপত্তার বোধ রোহিঙ্গাদের মধ্যে এতই প্রবল যে তারা স্বদেশে ফেরার ভরসা পাচ্ছে না। এরই মধ্যে নতুন এক সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্রোহী বনাম সামরিক বাহিনীর ‘যুদ্ধাবস্থার’ কারণে বান্দরবানে পালিয়ে এসেছে মিয়ানমারের বেশ কিছু নাগরিক। সম্ভবত তারা অন্য জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের লোক।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত মঙ্গলবার হলিউড অভিনেত্রী ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। দুই দিনের সফরে তিনি কক্সবাজারে যান; আগের দিন টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে দেখেন। তাঁর অভিমত—বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরা। রাষ্ট্রহীন এক অবস্থায় বাস করছে তারা। মিয়ানমার সেনাবাহিনী স্বদেশি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সহায়তার জন্য বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। জোলি বলেন, বাংলাদেশে এত মানুষকে আশ্রয় দেওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই তাদের ভরণ-পোষণ ও অন্যান্য বিষয়ে সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে এবং দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। প্রত্যাবাসন শুরুর আগে রোহিঙ্গা এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

আন্তর্জাতিকভাবেই স্বীকৃত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি। মিয়ানমার আন্তরিকতা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে বার বার। বাংলাদেশ দেড় বছর ধরে চেষ্টা করে চলেছে এদেরকে প্রত্যাবাসনে। কিন্তু আবার এর মধ্যেই মিয়ানমার থেকে বেশ কিছু লোক বান্দরবানে ঢুকেছে। রাষ্ট্রদূতকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে বটে, তবে খতিয়ে দেখা জরুরি আসলে ঘটনা কী। সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। নজর রাখতে হবে আন্তর্জাতিক মহলকেও। প্রত্যাবাসনে আরও চাপ বৃদ্ধি করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *