পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মোংলা বন্দরে ক্রমবর্ধমান নৌযান চলাচল সহজ করতে আধুনিক নেভিগেশন লক সিস্টেম চালুর কথা ভাবছে সরকার। নেভিগেশন লকের মাধ্যমে পানির স্তরের সঙ্গে নৌযান চলাচলের সামঞ্জস্যতা রক্ষা করা হয়। দুই পাশের গেটগুলো ব্যবহার করে এই পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এই সামঞ্জস্যতা রক্ষা করা হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআইডব্লিউটিএ) সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি কর্পস অফ ইঞ্জিনিয়ার্সের (ইউএসএসিই) সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। বৈঠকে এই প্রকল্পে অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আর্মি কর্পস অফ ইঞ্জিনিয়ার্স যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জলপথ রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ। তারা মিসিসিপি নদীসহ একাধিক প্রকল্পে এর আগে নেভিগেশন লক তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌযানের চলাচল সহজ করার পাশাপাশি, নেভিগেশন লকটি বঙ্গবন্ধু মোংলা-ঘাসিয়াকিহালী খালে ভারী পলি জমতে সাহায্য করবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “সম্প্রতি আমরা ইউএস ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (ইউএসটিডিএ) আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরি করার কথা জানালে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের নৌপথে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা নিউ অরলিন্স বন্দরে মিসিসিপি রিভার নেভিগেশন লক পরিদর্শন করেছি। যুক্তরাষ্ট্র মোংলা বন্দর এলাকায় অনুরূপ নেভিগেশন লক তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা তাদের প্রস্তাব বিবেচনা করছি।”
বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই মোংলা-ঘাসিয়াকিহালী নৌপথ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছি। যদি মোংলা-ঘাসিয়াকিহালী খালে একটি নেভিগেশন লক বসাতে পারি, তাহলে পলির হার ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।”
ঢাকা থেকে মোংলা পর্যন্ত নৌপথের দূরত্ব কমাতে ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) মোংলা-ঘাসিয়াখালী খাল খনন করে। খালটি মোংলা, খুলনা এবং নোয়াপাড়াকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি ভারত-বাংলাদেশ ট্রান্সশিপমেন্ট প্রোটোকলেরও প্রধানতম মাধ্যম। ২০১১ সালে জলস্তরের গভীরতা কমে যাওয়ায় এই রুটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, এই রুটে দুটি নেভিগেশন লকের মাধ্যমে নৌপথে পলি জমা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, একটি মোংলা প্রান্তে এবং আরেকটি কালীগঞ্জ প্রান্তে।
মোংলা বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, খালটিতে বর্তমানে ছোট জাহাজ নোঙর করতে পারে। নেভিগেশন লক তৈরি করা হলে বড় জাহাজও খালটি ব্যবহার করতে পারবে।
মিসিসিপি নদীর নাব্যতা বজায় রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি কর্পস অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বিভিন্ন ধরনের বাঁধ এবং লক ব্যবহার করেছে। লক এবং ড্যামগুলো প্রথমে বাইপাস বা র্যাপিডের সেটের ওপর দিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, কিন্তু এখন সেগুলো নাব্যতা ধরে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। উইং ড্যাম এবং ক্লোজিং ড্যাম প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়।
এই বাঁধ ও লকগুলো ব্যবহার করে মিসিসিপি নদীতে সারা বছর প্রতিটি অঞ্চলে যাতায়াত করার মতো অবস্থা ধরে রাখা হয়েছে।
মিসিসিপি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। এটি মিনেসোটার লেক ইটাস্কা থেকে উৎপত্তি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানা উপকূলে মেক্সিকো উপসাগরে পতিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নৌপথ রয়েছে সাড়ে ২৫ হাজার মাইল। এর মধ্যে মিসিসিপি নদীতে রয়েছে ৯ হাজার মাইলেরও বেশি।
সুত্র : ঢাকা ট্রিবিউন


