পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মহানবী (সা.) এর শানে সামান্যতম অবমাননাও কোন মুসলিমের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ আস’আদ মাদানী।
তিনি বলেন, নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবমাননার বিষবাষ্প চারদিকে ছড়িয়ে দেয়ার এ সময়ে প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য হল, নিছক জযবাকে দূর করে উস্কানিমূলক পরিস্থিতিতে সংযমের সাথে শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলা। নিজেদের দাওয়াতী প্রচারণাকে জাগিয়ে তুলে শত্রুদের পক্ষ থেকে ছড়ানো অবমাননাকর ও ভ্রান্তিমূলক প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রত্যেকের উচিত বলে জানান তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নবীয়ে করীম হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে কার্টুন প্রদর্শনী ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ইসলাম সম্পর্কে কটূক্তির তীব্র নিন্দা জানিয়ে এসব বলেন তিনি।
বর্তমান বিশ্বে ধর্মবিশ্বাসী ও ধর্মহীন – এই দুই ধরণের সমাজ রয়েছে জানিয়ে জমিয়ত সেক্রেটারী বলেন, মত প্রকাশে স্বাধীনতার একটা সীমা আছে। প্রত্যেকের সীমার ভেতরেই থাকা উচিত। ধর্ম অবমাননার এই প্রোপাগান্ডা মূলত ধর্মহীন সমাজের প্রোপাগান্ডা। তাই প্রতিটি ধর্মের বিশেষত পাশ্চাত্যের খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদেরও এই অবমাননা বিরোধি আন্দোলনে মুসলমানদের সাথে সংহতি প্রকাশ করা উচিত।
মাহমুদ মাদানী বলেন, মানবীয় সকল গুণাবলীর আধার ছিলেন রাসূলে কারীম সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাঁকে রাহমাতুল্লিল আলামীন উপাধিতে ভূষিত করেছেন। মক্কার মুশরিকরা প্রবল বিরােধিতা সত্ত্বেও রাসূল সা. এর প্রতি আঙুল তোলার দুঃসাহস দেখায়নি। ইনসাফের দৃষ্টিতে তাঁর সিরাতের প্রতি তাকালে প্রত্যেকের হৃদয় সাক্ষ্য দেবে, তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, সমস্ত মানবীয় গুণাবলী যার মাঝে একত্রিত হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় অসংখ্য অমুসলিম চিন্তাবিদ ও দার্শনিকেরা তাঁর মহত্ত ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে গিয়েছেন।
উপরদিকে থুথু নিক্ষেপ করলে দিনশেষে নিজের মুখেই তা এসে পড়ে মন্তব্য করে সাইয়্যিদ মাদানী বলেন, সব ধর্মের শ্রেষ্ঠ লোকেদের রাসূল সা. সম্পর্কে স্তুতিগাঁথা ও প্রশংসামূলক কথা থাকার পরও তাঁর প্রতি বিষেদগার ও অবমাননার তীর ছোঁড়া, উপরদিকে থুথু নিক্ষেপের নামান্তর।
তিনি বলেন, এই হীনতর নিকৃষ্ট পর্যায়ের কাজ চরমতর অসুস্থমনা, ঘৃণাতুর ও স্বেচ্ছাচারের সীমা অতিক্রমকারী কোন লোক ছাড়া সম্ভব নয়। এই অবমাননা যেকোন মুসলিম তো বটেই; কোন ভদ্রজনও মেনে নিতে পারে না। মহানবীকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অবমাননার এই ঘৃণ্য কাজ বৈশ্বিক পরিমন্ডলে নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে এবং বিশ্বের নিরাপত্তা বিধান এতে লঙ্ঘিত হবে বলেও জানান তিনি।
মাওলানা মাদানী বলেন, যখন গোটা বিশ্ব নিজেদের মধ্যে শান্তি-নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, তখন একজন রাষ্ট্রপ্রধান থেকে এমন হীনকাজ ক্ষমার অযোগ্য অনেক বড় অপরাধ বলে বিবেচিত হয়। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সমাজে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে এটি একটি ঘৃণ্য প্রচেষ্টা।
উল্লেখ্য, চলতি মাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে পড়াতে গিয়ে স্যামুয়েল প্যাটি নামে ৪৭ বছর বয়স্ক এক স্কুল শিক্ষক ক্লাসে মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে কার্টুন প্রদর্শন করেন। এতে ১৮ বছরের এক চেচেন তরুণ ওই শিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করেন। এ ঘটনায় শিক্ষকের প্রতি সম্মান জানাতে গিয়ে ইসলাম ও বিশ্বনবীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো।
/এএ


