পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: কট্টর হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদি সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে। হাজার হাজার ভারতীয়-আমেরিকান কট্ররপন্থি এই মোদি সরকারের ফ্যাসিবাদী নীতির বিরুদ্ধে নেমে আসেন রাস্তায়।
ডন অনলাইন সূত্রে জানা যায়, ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজের সামনে অবস্থান করে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। তারা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাদের অভিযোগ, মুসলিমবিদ্বেষী এই আইন ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের মর্যাদা খর্ব করে দেবে।
গত বছর সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ হাজারের বেশি ভারতীয়-বংশোদ্ভূত মার্কিনির বিপুল সংবর্ধনা পেয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর এর মাত্র চার মাসের মাথাতেই বদলে গেছে দৃশ্যপট। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এবার মোদির বিরুদ্ধে সরব সেই প্রবাসী ভারতীয়রাই।
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় দূতাবাসের সামনেও কয়েকশ লোককে জড়ো হতে দেখা গেছে। দূতাবাসের মূল ফটকের কাছে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে বিক্ষোভকারীদের বাধা দিতে দেখা গেছে নিরাপত্তা বাহিনীকে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে থাকলে তারা সরে যান।
অন্যান্য ভারতীয়র মতোই ওয়াশিংটনের প্রতিবাদকারীরা হোয়াইট হাউজের বাইরে আল্লামা ইকবালের লেখা গান গাইতে দেখা গেছে। দূতাবাসের দিকে যাওয়ার আগে তারা ইকবালের ‘সারা জাহান সে আচ্ছা’ গানটি গাইছিলেন।
দূতাবাসের বাইরে কয়েকশ খালিস্তান সমর্থককেও জড়ো হতে দেখা গেছে। হোয়াইট হাউজের বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আহ্বান জানান, যাতে ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফরের সময় এই বর্ণবাদী আইনটি বাতিলে মোদির কাছে আহ্বান জানান তিনি।
মারাত্মকভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের দেশগুলোর তালিকায় ভারতকে রাখতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর কাছে আবেদন করেন তারা।
নিউইয়র্ক, শিকাগো, আটলান্টা, হিউস্টোন, সানফ্রান্সিসকো এবং ওয়াশিংটন ডিসির মতো শহরে এ ধরনের প্রতিবাদ মিছিল করেন প্রবাসী ভারতীয়রা।
নিউইয়র্কে মুস্তাকিম নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমি এখন ভারত যেতে পারছি না। কিন্তু দেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে মোদি যে যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন, তার প্রতিবাদ জানাতে আমাকে এখানে আসতে হয়েছে।
এবিক্ষোভে আরও অংশগ্রহণ করেছেন ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল, হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস, ইকুইটি ল্যাবস, শ্রী গুরু রভিদাস সভা অব নিউইয়র্ক, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ও জিউশ ভয়েস ফর পিস।


