যে নবির চিত্রই নাই, তাঁর আবার ব্যঙ্গচিত্র হয় কী করে!

যে নবির চিত্রই নাই, তাঁর আবার ব্যঙ্গচিত্র হয় কী করে!

যে নবির চিত্রই নাই, তাঁর আবার ব্যঙ্গচিত্র হয় কী করে!

রশীদ জামীল : নবির তো কোনো চিত্রই নেই। তাহলে ব্যঙ্গচিত্র হয় কী করে! কোনো মুসলমান কি নবিকে দেখেছে নাকি! তাহলে নবির চিত্রকেই যে ব্যঙ্গ করে আঁকা হয়েছে, এটা তারা কীভাবে বুঝল…

উপরের কথাগুলো যদি কোনো অশিক্ষিত অমুসলিম বলে, তাহলে তার বিবেককের উপর করুনা করা যায়। কিন্তু নিজেকে মুসলমান দাবি করা উর্বর মস্তিস্কের সো-কলড মুক্তমনা তকমাধারী অনেকেকে যখন এমন কথা বলতে শুনি, তখন তাদের মস্তিস্কের গোবরের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন জাগে। নবিজির কোনো চিত্র নেই। কখনো ছিলও না। সুতরাং কেউ নবির চিত্র অংকন করলে সেটাকে লজিক্যালি নবির চিত্র বলা যাবে না- কিছু শিক্ষিত মানুষকেও যখন এমন লজিক দিতে দেখি, তখন করুনা হয় তাদের জন্য।

এই ধারার কোনো পণ্ডিত যদি আপনার আশেপাশে থাকে, তাহলে তার সাথে তার লজিকে কথা বলুন। এভাবে-
-নবির কোনো চিত্র নেই বলে ব্যঙ্গ চিত্র হতে পারে না?

-কীভাবে হবে, চিত্রই যেখানে নেই।

-কেউ যদি কোনো চিত্র এঁকে বুঝাতে চায় এটা মুসলমানের নবির চিত্র!

-এটাই তো হুজুগী মুসলমানের আবেগ। কেউ কিছু বুঝালেই সেটা বুঝে ফেলতে হবে কেন? নিজের বিবেক নাই?
-ও আচ্ছা। কিছু মনে করবেন না। একটা ইমাজিনেশন করি।

-কেমন ইমাজিনেশন?

-ধরুন, আপনার মা বোনকে কেউ দেখেনি। তারা পর্দা করেন অথবা দূরে কোথাও থাকেন। এখন কেউ একজন জংলি দুই নারীর ছবি আঁকল। (জংলিরা কিন্তু গায়ে কাপড় পরে না।) ছবির ক্যাপশনে আপনার মা বোনের নাম লিখে দিলো অথবা কোনো ইনিশিয়েল দিয়ে মানুষকে বুঝাতে চাইল এটা আপনার মা বোনের চিত্র। আপনি তখন কী করবেন? লজিক দিয়ে বলবেন, ‘আরে আমার মা বোন তো ন্যাংটা থাকেন না। তাহলে এগুলো তাদের ছবি হবে কী করে? আর এই লোক আমার মা বোনকে জীবনে দেখেওনি। সো, কোনো ব্যাপারই না’!

-এখানে মা বোনকে টেনে আনছেন কেন?

-টেনে আনিনি। তারা বাই ডিফল্ট চলে এসছেন।

-মানে কী?

-বলছি। তার আগে বলেন আপনি তো মুসলমান?

-অফকোর্স, তবে আমি গোঁড়া মুসলিম না।

– ভালো। গোঁড়া না হওয়াই ভালো। গোঁড়া হলে মুশকিল! জংলি জানোয়ারের মতো চলাফেরা করা যাবে না। সত্য মিথ্যার ফারাক করে চলতে হবে। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে হবে।

– হোয়াট রাবিশ! আপনি তো দেখি গোঁড়ামির ডেফিনেশনই জানেন না। কীসের সাথে কী মেলাচ্ছেন?
– কোল, আমি গোঁড়ামির সাথেই গোঁড়ামি মেলাচ্ছি। গোঁড়ার ইংরেজি orthodox. It’s can be noun, can be addictive. গোঁড়া কাকে বলে-এই প্রশ্নের জবাবে আপনাদের ডিকশনারি বলছে, a person or their views, especially religious or political ones, or other beliefs or practices) conforming to what is generally or traditionally accepted as right or true; established and approved. তাহলে ধর্মীয়ভাবে যে সত্যগুলো এস্টাবলিশড এবং অপ্রোভড, সেগুলো গ্রহণ করাই যদি ধর্মীয় গোঁড়ামি হয়, আর আপনি যদি নিজেকে মুসলমান দাবি করেন, গোঁড়া না হয়ে উপায় আছে?
– কথা প্যাঁচাচ্ছেন কেন?

– কথা প্যাঁচাচ্ছি প্যাঁচ খুলবার জন্য। আপনি কিন্তু আমার প্রশ্নের জবাব দেননি।

-কোন প্রশ্ন?

-কেউ যদি আপনার মা বোনের কাল্পনিক কোনো চিত্র আঁকে, ন্যাকেড চিত্র, তাহলে আপনি কী করবেন?
– আমি প্রতিবাদ করব। কারণ, সে আমার মা বোনের নাম ইউজ করে এভাবে নোংরামি করতে পারে না।

– ঠিক এই কাজটাই মুসলমানরা করছে। সবাই জানে নবির কোনো চিত্র নাই। কিন্তু কেউ যখন আগডুম বাগডুম কিছু একটা অংকন করে সেটাকে নবির চিত্র বলে প্রচার করতে চায়, তখন সঙ্গতকারণেই মুসলমানের কলিজায় লাগে। ভালো কথা, আপনি তো মুসলমান?

– একই প্রশ্ন রিপিট করছেন কেন?

-রিপিট করছি একথা বলবার জন্য যে, আপনি যদি মুসলমান হতে চান, তাহলে আপনার মা বাবা ভাই বোন স্ত্রী সন্তান থেকে আপনার নবি আপনার কাছে প্রিয় হতে হবে। এখন কেউ আপনার মাকে নিয়ে নোংরামি করলে আপনি সহ্য করবেন না, কিন্তু আপনার নবিকে নিয়ে নোংরামি করলে লজিক মারাবেন- এটা কেমন কথা?

লেখক : প্রবাসী কলামিস্ট

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *