যেভাবে বিশ্বব্যাংকে চাকরি পেলেন ২৩ বছর বয়সী নাহাতা

যেভাবে বিশ্বব্যাংকে চাকরি পেলেন ২৩ বছর বয়সী নাহাতা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ধৈর্য ধরে লেগে থাকলে সফলতা আসবেই—এ কথা যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকের শিক্ষার্থী ভাটসাল নাহাতা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। তিনি ভারত থেকে সেখানে পড়তে গেছেন। বিশ্বব্যাংকে চাকরি করার স্বপ্ন ছিল নাহাতার। তাঁর স্বপ্নের চাকরির পেছনে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে লেগে ছিলেন। এর জন্য তাঁকে ৬০০ মেইল আদান–প্রদান করতে হয়েছে। ৮০ বার কল করতে হয়েছে। তবু হাল ছাড়েননি তিনি। ক্রমাগত চেষ্টার পর গিয়ে মিলেছে স্বপ্নের চাকরি।

পছন্দের চাকরি পাওয়ার জন্য এ প্রচেষ্টার কথা নিজের লিংকডইনে এক বড় পোস্ট দিয়ে লিখেছেন নাহাতা। তাঁর এ পোস্টে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ লাইক দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর পোস্টটি শতাধিক মানুষ শেয়ারও করেছেন।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা ও প্রাচীন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেখানে স্নাতকের শেষ পর্যায়ে ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় থেকে নাহাতা চাকরির জন্য চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু করোনা মহামারির ওই সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আর্থিক দুর্দশায় পড়ে। নাহাতা তাঁর পোস্ট এ কথা দিয়েই শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, ওই সময় অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়েছিল। তিনি লিখেছেন, ‘দুই মাসের মধ্যে স্নাতক শেষ হচ্ছিল। হাতে কোনো কাজ ছিল না। আমি ইয়েলের শিক্ষার্থী হিসেবে ভাবলাম, যদি চাকরিই নিশ্চিত করতে না পারি, তবে ইয়েলে এসে কী লাভ? ওই সময় মা-বাবাও প্রশ্ন করতে শুরু করেছিল।’

নাহাতা বলেন, ‘ভারতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে ভাবিনি। আমি ভেবেছিলাম, প্রথম বেতন হবে ডলারে। এ জন্য আমি নেটওয়ার্কিং বা সবার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করি। এ সময় কোনো পোর্টালে বা চাকরির দরখাস্ত করা থেকে দূরে থাকি। দুই মাসে ১৫ হাজার জনের সঙ্গে যুক্ত হই। ৬০০ ই–মেইল লিখি। ৮০ জন যোগাযোগ করে। বেশির ভাগ জায়গা থেকে প্রত্যাখ্যাত হই।’

নাহাতা আরও বলেন, ‘আমি এত বেশিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি যে আমার কৌশল কাজে লেগেছে। আমি মে মাসের শুরুতে চারটি চাকরির প্রস্তাব পাই। এ সময় বিশ্বব্যাংককে বেছে নিই। তারা আমার ভিসা স্পনসর করতে সম্মত হয়। এ ছাড়া আমার ব্যবস্থাপক আমাকে মেশিন লার্নিংয়ের ওপর একটি গবেষণা প্রবন্ধে সহলেখক হওয়ার সুযোগ দেন।’

এর আগে নাহাতা দিল্লির শ্রীরাম কলেজ অব কমার্স থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, কঠিন সময় তাঁকে কিছু জিনিস শিখিয়েছে। এর একটি হচ্ছে নেটওয়ার্কিংয়ের শক্তি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *