রাকিব হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুই আসামির সাজা কমলো

রাকিব হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুই আসামির সাজা কমলো

আদালত প্রতিবেদক ● খুলনার শিশু রাকিব হত্যা মামলায় সাজা কমেছে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুই আসামির। নিম্ন আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় সংশোধন করে তাদেরকে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর এ রায় দেন। নিম্ন আদালত আসামি শহীদ ও মিন্টু খানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। হাইকোর্ট এই সাজা হ্রাস করে তাদেরকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে উভয়কে জরিমানা করেন।

খুলনার শিশু রাকিব হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ ৪ এপ্রিল রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিল আদালত। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট এসএম মবিন ও গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল শুনানি করেন।

শুনানিতে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, পূর্ব কোন পরিকল্পনা ছিল না রাকিবকে হত্যার। ইয়ার্কির ছলেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে শরীফ ভিকটিমকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্ত দিয়েছে। অতএব নিম্ন আদালতের সাজা বাতিল করে খালাস দেওয়া হোক।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ছিল নজিরবিহীন। এভাবে পেটে বাতাস ঢুকিয়ে মানুষ হত্যা করার নজির বিশ্বে কোথাও দেখা যায়নি। কিন্তু আসামিরা সে ঘটনাই ঘটিয়েছে। হত্যাকাণ্ডটির ধরন ব্যতিক্রম বিধায় তা সারাদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ফলে বিচারিক আদালত যে দণ্ড দিয়েছে আপিল আদালতের উচিত তা বহাল রাখা।

২০১৫ সালের ৩ আগস্ট খুলনার টুটপাড়া কবরখানা মোড়ে শরীফ মোটরস নামের এক মোটর গ্যারেজে শিশু রাকিবকে কমপ্রেশার মেশিনের মাধ্যমে মলদ্বারে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যার ঘটনা তখন সারা দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় ওই বছরের ৮ নভেম্বর গ্যারেজের মালিক ওমর শরীফ ও তার দূর সম্পর্কের চাচা মিন্টু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেয় খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলরুবা সুলতানা। খালাস দেয়া হয় বিউটি বেগম নামের এক আসামিকে। যিনি প্রধান অভিযুক্ত শরীফের মাতা।

খুলনা সদর থানা পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিলের পর দশ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করে বিচারিক আদালত। এরপরই মামলার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামিরা মৃত্যুদণ্ড বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করে। ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে আসার পর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন দ্রুতই পেপারবুক প্রস্তুত করে। রাকিবের মামলার পেপারবুক ৪৩৫ পৃষ্ঠার। পেপারবুক প্রস্তুতের পর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে পাঠান প্রধান বিচারপতি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ জানুয়ারি আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। এগার কার্যদিবস ধরে এই শুনানি চলে। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রায়ের জন্য ৪ এপ্রিল দিন ধার্য করে দেয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *