পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, এবার আর দিনের ভোট রাতে হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সুন্দর নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াবে না নির্বাচন কমিশন। এককভাবে নয়, যেকোনো সিদ্ধান্ত কমিশনের সব সদস্য মিলে নেয়া হয়। সিইসি আরো বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই।
গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ময়মনসিংহ অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম প্রামানিকের সভাপতিত্বে সভায় চার জেলার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি বলেন, নির্বাচন যখনই হবে সেই নির্বাচন সফল করতে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। নির্বাচন কখন হবে প্রধান উপদেষ্টা নিজেই বলেছেন। আমি এর পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কঠিন কাজটা সম্পন্ন করেছেন। কমিশনের কর্মকর্তারা চাইলেই যে পারেন, এটা তারই প্রমাণ। তিনি বলেন, ইসি সম্পূর্ণভাবে একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান, নিরপেক্ষ আছে, নিরপেক্ষ থাকবে। কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপের কাছে আমরা মাথা নত করব না। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাবো ইনশা আল্লাহ। এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। আশার কথা হচ্ছে, বর্তমানে সকল রাজনৈতিক দল নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলছেন। সবাই বলছে তারাও জাতির কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য। তিনি বলেন, একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটের দিনটি যাতে পালিত হয় আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিতে যাবে, নির্ভয়ে ও নির্দ্বিধায় নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সবাই যাতে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।
সিইসি বলেন, আমরা সারা দেশের নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতার জন্য শপথ করিয়েছি। রমজানের প্রথম দিনে তারা হাত তুলে শপথ করেছেন, কারো দ্বারা তারা প্রভাবিত হবেন না। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আইন-কানুন মেনে নির্বাচন পরিচালনা করবেন। অতীতে যা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য এবং আমাদের কর্মকর্তারা সে লক্ষ্যেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সম্পূর্ণ একটা নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যদি স্থানীয় নির্বাচনের অনুরোধ জানায় আমরা সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এখন আমরা জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কাজ করছি।
আওয়ামী লীগের নির্বাচন করা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেখানে রাজনৈতিকভাবে বিতর্ক চলে, সেটা নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই না। আমরা অত্যন্ত সচেতনভাবে রাজনীতি পরিহার করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এ জন্য অনেকেই আমাদের ওপর মন খারাপ করেছে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো আমরা মানছি না বলে অনেকেই আমাদের দায়ী করছেন। আমাদের বড় ক্রাইটেরিয়া হচ্ছে, যে সমস্ত সুপারিশের সাথে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে, সেগুলো আমরা সতর্কভাবে পরিহার করছি। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিষয়ে কথাবার্তা হয়, এটা রাজনৈতিকভাবে ফয়সালা হোক। ফয়সালা হয়ে আইনকানুন পরিবর্তন হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। এ ছাড়া আমরা ওইসব ব্যাপারে জড়িত হতে চাই না। সব দল মিলে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরকে মানতে হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দিনের ভোট রাতে হওয়ার আর সুযোগ নেই। সেইদিন আর ফিরে আসবে বলে মনে হয় না, অন্তত যতদিন আমরা আছি। আঠারো কোটি মানুষের দায় নিয়ে আমি মরতে চাই না। যা করব সহি নিয়তে, সঠিকভাবে আইন-কানুন মেনে করব। বিবেকের সায় নিয়ে করব। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে, আইন অনুযায়ী, আমাদের বিবেচনায় সচিবসহ পাঁচজন কমিশনার যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিই। পাঁচজন একমত না হলে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেই না। নির্বাচন কমিশন যত সিদ্ধান্ত নেয় সবগুলো হয়তো সবার পছন্দ হবে না, তবে এ সিদ্ধান্তগুলো আমরা সকলে একমত হয়েই গ্রহণ করি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, কমিশনের সাথে সংশ্লিষ্ট অফিসারদেরকে আমি বলেছি, তিনটি ক্রাইটেরিয়ার মাধ্যমে আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রথমটি হলো, যে কাজটি করছেন সেটি আইনসঙ্গত কি না। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আপনাদের বিবেক এই সিদ্ধান্তে সায় দিচ্ছে কি না। তৃতীয়টি হলো, ১৮ কোটি মানুষের সামনে আমরা যারা নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত থাকব তারা আসামি, যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারি তাহলে কিন্তু আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। এই তিনটি ক্রাইটেরিয়া মেনে আমরা কাজ করছি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়রকে নির্বাচিত করার প্রশ্নে সিইসি বলেন, মেয়র ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই। নির্বাচন কমিশন আদালতের নির্দেশনা পালন করে গেজেট প্রকাশ করেছে। আদালত দশ দিনের ভেতরে করতে বলেছিল আদালতের বাধ্যবাধকতা মেনে দশম দিনের মধ্যে আমরা করেছি। গত ১৫ বছরে যে নির্বাচন হয়েছে, আগে আইনের প্রয়োগ ছিল না, এই নির্বাচনে সবার জন্য সমানভাবে আইনের প্রয়োগ হবে।


