রাশিয়ায় বিক্ষোভ শুরু, আটক পাঁচ শতাধিক

রাশিয়ায় বিক্ষোভ শুরু, আটক পাঁচ শতাধিক

রাশিয়ায় বিক্ষোভ শুরু, আটক পাঁচ শতাধিক

পাথেয় টোয়েন্টিফের ডটকম : রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির সমর্থনে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রোববারের এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে রুশ পুলিশ। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানী মস্কোর মেট্রোস্টেশনগুলো বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া তারা রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে মানুষের চলাচল ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছে।

ওভিডি ইনফো নামের একটি এনজিও রাশিয়ায় বিক্ষোভ-সমাবেশ পর্যবেক্ষণ করে থাকে। ওভিডির ভাষ্য, দ্বিতীয় দফায় রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এই দফায় এখন পর্যন্ত ৫১৯ জন বিক্ষোভকে আটক করা হয়েছে।

রাজধানী মস্কোয় এখনো বিক্ষোভ শুরু হয়নি। সেখানে আরও পরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভ সামনে রেখে রুশ পুলিশ নাভালনির বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে আগেই আটক করে। একই সঙ্গে তারা নাভালনির সমর্থকদের বিক্ষোভ না করতে হুঁশিয়ার করে।

রুশ পুলিশ বলে, আজকের বিক্ষোভের জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি। এই বিক্ষোভ অবৈধ। অবৈধ কর্মসূচির বিরুদ্ধে গত সপ্তাহের মতো এবারও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রুশ পুলিশ বলে, এ ধরনের বিক্ষোভ করোনা ছড়াতে পারে।

কিন্তু নাভালনি-সমর্থকেরা পুলিশের হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছেন। তাঁদের নাভালনির মুক্তি দাবির পাশাপাশি সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়।

২৩ জানুয়ারি নাভালনি-সমর্থকেরা রাশিয়াজুড়ে প্রথম দফায় বিক্ষোভ করেন। সেদিন নাভালনির ডাকে হাজারো বিক্ষোভকারী রাশিয়ার রাজপথে নামেন। রাজধানী মস্কোসহ দেশটির অন্তত ১০০টি শহর-নগরে এই বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকালে চার হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।

গত সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দফায় রাশিয়াজুড়ে বিক্ষোভের কর্মসূচি পালন করছেন নাভালনি-সমর্থকেরা।
নাভালনি তাঁর আটকাদেশকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁকে মুক্তি দিতে মস্কোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পশ্চিমারা। রাশিয়ার ৩৫ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাভালনির সহযোগীরা। এই ৩৫ কর্মকর্তা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে দাবি নাভালনির সহযোগীদের।

গত বছরের আগস্টে সাইবেরিয়ার টমসক শহর থেকে উড়োজাহাজে করে মস্কোয় ফেরার সময় নাভালনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজ সাইবেরিয়ার ওমস্কে জরুরি অবতরণ করে। সেখানকার একটি হাসপাতালে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সেখানকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য জার্মানির বার্লিনে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে তিনি ধীরে ধীরে সেরে ওঠেন। পরে জার্মানির বিশেষজ্ঞরা জানান, নাভালনিকে রাশিয়ান নার্ভ এজেন্ট ‘নোভিচক’ প্রয়োগ করা হয়েছিল। বিষ প্রয়োগের জন্য পুতিনকে দায়ী করেন নাভালনি। তবে পুতিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

১৭ জানুয়ারি জার্মানি থেকে রাশিয়ায় ফেরেন নাভালনি। বিমানবন্দরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *