নিজস্ব প্রতিবেদক ● কোনো এলাকায় রাস্তা দখল করে রাখলে ওই এলাকায় আর কোনো উন্নয়ন কাজ করা হবে না- সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তিনি বলেন, যদি ডিসিসি একবার কোনো এলাকা থেকে মুখ ফিরিয়ে দেয় তাহলে ওই এলাকায় আর কোন কাজই হবে না।
গতকাল সোমবার গাবতলীর গৈদারটেক-মনসুরাবাদ এলাকার সংযোগ সেতুর উদ্বোধনকালে অবৈধ দখলদারদের এই হুঁশিয়ারি দেন মেয়র।
আনিসুল হক বলেন, আগামী অর্থবছরে অর্থাৎ বড়জোর আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমরা তেরশ রাস্তা বানাবো। এখন ছয়শ পঞ্চাশ কোটি টাকার টেন্ডার মেয়রের অফিস সই করে দিয়েছে। অনেক বেশি কাজ এই সব এলাকায় হবে। কিন্তু একটি শর্ত আছে। ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট ও কাউন্সিলরদের কাছে বলা আছে, যেসব এলাকার রাস্তা দখল করা, হাউজিং অথবা রাজউকের রাস্তা যারা দখল করে রেখেছেন তাদের রাস্তা কিন্তু আমরা বানাবো না।
মেয়র বলেন, যে কাউন্সিলর তার রাস্তা পরিষ্কার করে দিতে না পারবেন, সেই কাউন্সিলরের এখানে রাস্তা বানানো হবে না। এবং একবার যদি আমরা উঠে যাই তাহলে ওই এলাকায় আর কোন কাজ হবেনা।
উদাহরণ দিয়ে মেয়র বলেন, মোহাম্মদপুরের একটি এলাকায় মাত্র চারটি বাড়ির জন্য একটি রাস্তা বানাতে পারছি না, যেটা রাস্তা দখল করে আছে। আমরা বলে দিয়েছি যদি ওই চারটা বাড়ি রাস্তা ছেড়ে না দেয় তাহলে আমরা ওই রাস্তা বানব না।
মেয়র বলেন, আমরা রাস্তা তৈরির জন্য চেষ্টা করছি। রাস্তা বড় করার জন্য রাস্তার পাশের দখল উচ্ছেদ করছি। এগুলোতে আমাদের সাহায্য করেন। ইনশাল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আপনার নিজের এলাকা আপনি নিজে চিনতে পারবেন না।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সিটি করপোরেশনের সড়ক, নালা ও এলইডি লাইটিং এর কাজ শেষ হবে বলেও জানান আনিসুল হক। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের সব রাস্তা আলোকিত হবে এবং নিরাপত্তার জন্য পাঁচ হাজার ২০০ সিকিউরিটি ক্যামেরা লাগানো হবে।
মেয়র জানান, আমরা গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় গত অর্থবছরে ৬৪২টি রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার করা হয়েছে। ৩১০ কোটি টাকার আশেপাশে খরচ হয়েছে। গুলশান এলাকার ফুটপাতগুলো এখন আট ফুটের জায়গায় ১৫ ফিটের হয়ে গেছে। মেয়র বলেন, দূতাবাসগুলো আমাদের দেশের মানুষ ঢাকা শহরের আমাদের জায়গায় রাস্তা দিয়ে চলতে দিত না। সেই সমস্যারও সমাধান হয়েছে। এখন মানুষজন এরই মধ্যে হাঁটাচলা শুরু করেছে। রাশিয়ান অ্যাম্বাসির ফুটপাত থেকে ২৮৬ টি শক্ত বোল্ডার আমরা তুলে ফেলেছি। ইতালিয়ান অ্যাম্বাসির চারপাশ থেকে ২৫০র মতো বোল্ডার সরিয়েছি।
আনিস বলেন, একেকটি এলাকা নিয়ে প্ল্যানিং তৈরি হয়। সেই ভাবে উত্তরা, বনানী, গুলশান এই এলাকার ডিপিটিগুলো আমরা আসার আগে শুরু হয়েছিল। আমরা সেই সব এলাকায় কিছু কাজ করেছি। এবং আমার মনে হয় যে, যারা দীর্ঘদিন ওই এলাকায় বাস করেন তারা মোটামুটি ভাবে খুশি।
আনিসুল হক বলেন, অনেকে বলেন, মেয়র অনেক কাজ করেছে। আমি বলব মেয়র একা কোন কাজ করতে পারে না। এখানে মেয়রের ইনস্টিটিউশন কাজ করে, নাম হয় মেয়রের। একটি দল, ডিএনসিসির পরিবার ও কাউন্সিলররা মিলে একটি শক্তি হয়ে কাজ করে। মেয়র বলেন, এই শক্তি একটি দলের, একটি নেতার শক্তি। এই শক্তির কারণে কোন বাজে ইনফ্লুয়েন্স আমাদের উপর পড়তে পারে না। একটি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার নেতৃত্ব। সেই রাজনৈতিক শক্তির বলেই আমরা কাজ করি।


