রুখতে হবে মেয়াদোত্তীর্ণ মাংস বিক্রি

রুখতে হবে মেয়াদোত্তীর্ণ মাংস বিক্রি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মেয়াদহীন গোশত মানবজীবনের জন্য কতটুকু বিপদ তা বলা বাহুল্য। আজকের সমাজে এই খাবার দাবারে ভেজাল রুখতে না পারলে আগামী প্রজন্মই আমরা প্রতিবন্ধীর প্রজন্ম পাবো। সুপারশপগুলোর নামডাক ও চাকচিক্য দেখে ক্রেতারা প্রায় নিশ্চিন্তে সেগুলো থেকে মাছ-মাংসসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য কিনে নেয়। কিন্তু সেগুলো কতটা স্বাস্থ্যসম্মত তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

সম্প্রতি র্যা ব ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অভিযানে তার কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে। অনেক সুপারশপে আমদানি করা মাছ-মাংস বিক্রি করা হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান এগুলো আমদানি করে, তাদের ভাণ্ডারে এমন মাছ-মাংস পাওয়া গেছে, যেগুলো অনেক আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ক্রেতাসারল্যকে পুঁজি করে এসব নষ্ট জিনিস বিক্রি করছে বলে প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে। বিস্ময়কর হলেও সত্ত্বেও ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে আমদানি করা মাংসও পাওয়া গেছে কোথাও কোথাও।

শুধু মাছ-মাংসই নয়, ২০১৭ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া কিশমিশ, চকোলেট, চকোলেট মিল্কও পাওয়া গেছে তাদের কাছে। এসব কারণে ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং এক কোটি ৮৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বর্তমান নীতি অনুযায়ী মাছ-মাংস আমদানি করা যায় না। বিশেষ ক্ষেত্রে আমদানির প্রয়োজন হলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র নিতে হয়। এসব মাছ-মাংসের ক্ষেত্রে তা নেওয়া হয়নি। ফলে অবৈধভাবে আমদানি করা এসব মাংসের মান নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ থাকে। সব মিলিয়ে ক্রেতাস্বার্থ এখানে মারাত্মকভাবে বিঘ্নি হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্যও এগুলো মারাত্মক হুমকি।

আমরা যারা রাজধানীতে বসবাস করি চরম ব্যস্ততার মধ্যে, সে সুযোগই নিচ্ছে সুপারশপগুলো। রাজধানীর মানুষ অতটা দেখেশোনে চলতে পারে না। ব্যস্ত জীবনে অনেক চরম সত্যকে নিজের করে নিতে হয়। অসাধুচক্রের কাছে তাই জিম্মি হয়েই থাকতে হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর হোটেলগুলোর মান নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত খাবার তৈরি ও পরিবেশনের দিকগুলো বিবেচনা করে হোটেলগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিভুক্ত করা হচ্ছে। সারা দেশে তো বটেই, রাজধানীরও বেশির ভাগ হোটেল এখনো এই উদ্যোগের বাইরে রয়ে গেছে। আর এরা যে মাছ-মাংস, মসলা বা অন্যান্য খাদ্য উপাদান ব্যবহার করছে, সেগুলোর মান নিয়ন্ত্রণের কী হবে।

সম্প্রতি ভারতেও এ রকম বেশ কিছু চক্র ধরা পড়েছে। অথচ ভারত থেকেও অবৈধভাবে আনা হচ্ছে প্রচুর মুরগির মাংস। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আনা হচ্ছে মাংস। অতীতে অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁর ফ্রিজে ছাতা পড়া মাছ-মাংসও পাওয়া গেছে। তাহলে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর খাদ্যের মান কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে? এ প্রশ্ন থেকেই যায়। আমরা অবাক হয়ে দেখি, অপরাধীরা যখন অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়, তখন অপরাধের মাত্রা বাড়তেই থাকে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, উদাসীনতা ও নানা ধরনের যোগসাজশের কারণে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল, নিম্নমান ও ক্ষতিকর খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহ বাজারে অনেক বেড়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষার প্রয়োজনে এগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এ ধরনের অপরাধের জড়িতদের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *