রেকর্ড করে গিনেস বুকে ‘ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান’

রেকর্ড করে গিনেস বুকে ‘ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আমাদের শহর নিয়ে অামাদের ভাবনার অন্ত নেই। বাংলাদেশের ছোট্ট এ শহরটাই আমাদের প্রাণের রাজধানী। কষ্ট-ক্লেশ যাই হোক এখানেই মিলেমিশে থাকতে হয় আমাদের। ঘনবসতি, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, অতিরিক্ত যানজট, সরকারী রাস্তায় ফুটপাত বসিয়ে জনদুর্ভোগ, সবকিছু মিলিয়ে খুব খারাপ অবস্থা অামাদের শহরটার। জরিপে কখনো বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকয় প্রথম থেকে দ্বিতীয় স্থানেও চলে আসে আমাদের শহরের নাম। তবুও এ শহর আমাদেরই। আমাদের প্রাণের জায়গা ঢাকাই। ৪০০ বছরেরে ইতিহাস নিয়ে আমরা গর্বই করি সবসময়। তবে সে ঢাকা যখন নোংড়ায় ডুবে থাকে। বর্হিবিশ্বে মানুষ নাক সিঁটকায় আমাদের নিয়ে, তখন আমরাও কি দমে যাবার! এ শহর আমাদের। এ শহর পরিচ্ছনতার দায়িত্বও আমাদের। তাই নেমে পড়তে হয় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে।

সম্প্রতি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে স্বীকৃতি পেল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) আয়োজিত ‘ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান’।

ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে স্থান পাওয়ার বিষয়টি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হওয়ার পর তা দেখে সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

গত ১৩ এপ্রিল প্রতীকী পরিচ্ছন্নতায় গিনেস বুকে থাকা পূর্বের রেকর্ডের লোকসংখ্যার থেকে অনেক বেশি লোক অংশগ্রহণ করে ডেটল পরিচ্ছন্ন ঢাকা কর্মসূচিতে।

‘মন সুন্দর যার সে রাখে দেশ পরিষ্কার’এমন স্লোগানে গিনেজ বুকে নতুন রেকর্ড গড়তে সকাল নয়টায় কর্মসূচি শুরু হয়। গিনেজ বুকে রেকর্ড করার শর্ত অনুযায়ী কর্মসূচিতে অংশ নেয়া লোকজনকে প্রথমে মঞ্চ থেকে অনুশীলন করানো হয়। প্রস্ততি সম্পন্ন করতে অংশগ্রহণকারীরা জিরো পয়েন্ট থেকে গোলাপ শাহের মাজার পর্যন্ত নির্ধারিত জায়গায় দাড়িয়ে অনুশীলনে অংশ নেন এবং তারা তাদের অনুশীলন সম্পন্ন করেন।

কর্মসূচিতে ডিএসসিসির নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা সংস্থা, স্কুল-কলেজ, সরকারি, বেসরকারি, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক দলের কর্মীসহ সাধারণ নগরবাসী অংশগ্রহণ করেছেন। রেজিস্ট্রেশনকালে পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেওয়ার জন্য সবার হাতে একটি করে ঝাড়ু, মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্ক দেওয়া হয়। ঝাড়ুর সঙ্গে একটি বারকোড ও হাতে নির্দিষ্ট যন্ত্রবিশেষ দেওয়া হয়।

ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বচ্ছ ঢাকা গড়তে নগরবাসীকে সচেতন করতে প্রতীকী এই কর্মসূচির আয়োজন ছিল। এর মাধ্যমে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন না হলেও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এই শহরের নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে লেখা থাকবে। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত এপ্রিলে ‘স্বচ্ছ ঢাকা’ কর্মসূচি হাতে নেয়। বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ একে সহযোগিতা করে।।

এর আগে ভারতের আহমেদাবাদের কাছের একটা শহরে ৫ হাজার ২৬ জনকে নিয়ে এক কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করার মাধ্যমে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করার একটি রেকর্ড রয়েছে। সেই রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতায় জনগণকে সচেতন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

‘ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ কর্মসূচিতে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করলেও রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন ১৫ হাজার ৩১৩ জন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *