লকডাউন; ইহকাল পরকাল

লকডাউন; ইহকাল পরকাল

লকডাউন; ইহকাল পরকাল

মাওলানা আরিফ বিল্লাহ ❑ প্রতিবছরই মাহে রামাদান আমাদের কাছে ফিরে আসে অফুরন্ত কল্যাণ আর অবারিত রহমতের ভাণ্ডার নিয়ে। মহান আল্লাহ মাগফিরাতের সামিয়ানা মেলে ধরেন এ মাসে পাপে পঙ্কিল বান্দার উপরে। রহমতের চাদর জড়িয়েদেন বান্দার আপাদমস্তক। শুদ্ধাচারের সুযোগ দিয়ে ফিরিয়ে নিতে চান তাঁর দিকে। পাপের দরিয়ায় অবগাহন করা বান্দার জন্য তিনি সাজিয়ে রাখেন নানাপন্থা। এগারো মাস মন সায়রে সাঁতরেও বান্দা যেন নিজের গুনাহকে মুছে নিতে পারে রহমতের টাওয়ালে। সেহরির সুন্নাত দিয়ে বান্দা যখন খোদার বিধানকে নিয়ে দিন শুরু করবে, সুবহে সাদিকের মতো আল্লাহ তার কালো দিলকে আলোকিত বানিয়ে দিবেন তার শুদ্ধাচারের মাধ্যমে।

‘ফাফিররু ইলাল্লাহ’ তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে এসো। কালের করোনার এই মুমূর্ষূ পরিস্থিতিতে রবের দিকে ফিরা ছাড়া আমাদের দুসরা কোন পথ নাই। করোনার ছোবলে আজ পিছু হটছে আমাদের বীর যোদ্ধা ডাক্তার-নার্সরা। তারাও অসহায় আজ করোনার বিষাক্ত ছোবলের কাছে। সবাই পালাতে চায়, সবাই বাঁচতে চায়, কিন্তু কোথায় পালাবে? কে বাঁচাবে?

তেমনি একজন মুমিনের জীবনে খুশি ও আনন্দ আসে, যখন তার জীবনে রমজান ফিরে আসে।

তোমার চেষ্টা থেমে গেছে, তোমার রসদ ফুরিয়ে গেছে। তুমি পরাজয় নিবে অসহায়ত্বের কাছে! তুমি ফিরে এসো আল্লাহর দিকে, তাঁর রহমতের দরিয়ার পানে। তিনি তোমাকে শুদ্ধ করতে চান গুনায় মলিন জীবন থেকে। হারিয়ে যাওয়া সন্তান হঠাৎ ফিরে আসলে মানুষ যেমন খুশি হয়। তেমনি একজন মুমিনের জীবনে খুশি ও আনন্দ আসে, যখন তার জীবনে রমজান ফিরে আসে।

হাদিছে বলা হয়েছে- আল্লাহ তায়ালা বেহেশকে সারা বছর সজ্জ্বিত করেন রমজান মাস উপলক্ষ্যে। একজন মুমিনের সাধনার ফসল কিংবা তাঁর মালিকের পুরুষ্কার যেহেতু জান্নাত, তাই এই জান্নাত লাভের অফুরন্ত সময় হলো রামাদানুল মুবারাক। এমাসের প্রতি রাতেই মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং একজন ফেরেশতাকে পাঠিয়ে দেন দুনিয়ার জনপদে। তিনি ডাকতে থাকেন ‘ইয়া বাগিয়াল খাইর, আকবিল। ইয়া বাগিয়াস র্সা আকছির।’

হে মঙ্গলাকাঙ্খি, হে কল্যান প্রত্যাশি, হে বিপদ থেকে উদ্ধার প্রার্থী, হে মহামারী থেকে মুক্তিকামী, অগ্রসর হয়। চাও, তুমি এ মাসে যা চাইবে আমি তোমাকে তাই দেবো। আজ থেকে শাওয়ালের চাঁদ উঠা পর্যন্ত যা চাইবে সব দেবো। আর হে অমঙ্গলে দৌড়-ঝাপকারী, তুমি থেমে যাও। এই মাস এমন একটা মাস তুমি ভালো করলেও পূণ্য পাবে। মন্দ ত্যাগ করলেও পূণ্যবান হবে।

মনে রেখো, যদি তুমি আমার সন্তুষ্টির জন্য প্রবৃত্তিকে পরিহার কর, অমঙ্গল ত্যাগ কর, আমি নিজ হাতে তোমাকে পুরষ্কার প্রদান করবো। তোমাকে জান্নাত দান করবো। তুমি আমার জন্য একহাত অগ্রসর হলে আমি দু’হাত অগ্রগামী হবো। তুমি হেঁটে আসলে আমি দৌড়ে আসবো। আমি তোমার জন্য জান্নাতকে সাজিয়ে রেখেছি, তোমার জন্য তোরণ নির্মাণ করেছি। আমি তোমার জন্য এ মাসে দুষ্ট চক্রের সবকিছুতে লকডাউন দিয়ে রেখেছি।

জাহান্নামের দরজায় খিলি মেরে জান্নাতের দরজাকে উম্মুখ করে দিয়েছি।

শয়তান ইবলিসকে রাজবন্দী বানিয়েছি। তার সঙ্গীদের ক্ষমতা আমি খর্ব করে দিয়েছি। দিবস রজনীর সকল অশুভোকে আমি গুটিয়ে রেখেছি। জাহান্নামের দরজায় খিলি মেরে জান্নাতের দরজাকে উম্মুখ করে দিয়েছি। তুমি আমাকে ডাক নির্জনে, তুমি এসো অবনত মস্তকে। তুমি চাও তোমার দিল উজার করে। আমি তোমার দিলকে সিঞ্চিত করবো রহমতের বারিতে। তুমি গোনাহ থেকে প্রার্থনা করো আমি তোমাকে পবিত্র করবো।

হে মুমিন! করোনা কালের এই নিঃসঙ্গময়ে মাহে রামাদানে খোদার দয়াই তোমাকে পরশ দিবে। পরকালের এ লকডাউনে নিজেকে তুমি শুধরাতে পারবে। দুনিয়ার লকডাউনে কি তুমি করোনার থাবা থেকে বাঁচতে পারবে? তুমি উঠো! তুমি জাগো! লুটিয়ে পর তাঁর কদমে। যিনি তোমাকে শুদ্ধতার সুযোগ দিয়েছেন মাহে রামাদানে।

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *