শতভাগ সবুজ জ্বালানি ব্যবহার করে উড়াল দেবে প্রথম বিমান

শতভাগ সবুজ জ্বালানি ব্যবহার করে উড়াল দেবে প্রথম বিমান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় টেকসই জ্বালানির গুরুত্ব বেড়ে যাচ্ছে। কারণ বেশির ভাগ জ্বালানি কার্বন নির্গমন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান নিয়ামক জীবাশ্ম জ্বালানির বিপরীতে একটি টেকসই ও বিকল্প উৎস হিসেবে ধরা হয় গ্রিন এনার্জি বা সবুজ জ্বালানি বা টেকসই জ্বালানি। টেকসই জ্বালানি বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে সীমিত করতে সক্ষম।

 

সেই লক্ষ্যেই শুধু টেকসই জ্বালানি বা সবুজ জ্বালানি ব্যবহার করে প্রথম ‘ট্রান্সআটলান্টিক ফ্লাইট’ আজ মঙ্গলবার যাত্রা শুরু করবে। ব্রিটিশ সময় ১১টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে) উড্ডয়ন করবে ফ্লাইটটি।

 

ভার্জিন আটলান্টিক পরিচালিত ফ্লাইটটি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দ থেকে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে উড়ে যাবে। ফ্লাইটটি সরকারি তহবিলে পরিচালিত হচ্ছে।

 

এয়ারলাইনস কম্পানিগুলোকে বিমানে সবুজ জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করাই এই ফ্লাইটটির উদ্দেশ্য।  কিন্তু টেকসই জ্বালানি সরবরাহ একটি চ্যালেঞ্জ। এর ব্যবহার বাড়লে অন্যান্য প্রযুক্তিরও প্রয়োজন পড়বে।

 

তথাকথিত টেকসই বিমান জ্বালানি (এসএএফ) বিভিন্ন উৎস থেকে তৈরি করা যেতে পারে।

 

যার মধ্যে রয়েছে ফসল, গৃহস্থালির বর্জ্য এবং রান্নার তেল। এই ফ্লাইটের জন্য একটি বোয়িং ৭৮৭ বিমানে ৫০ টন  টেকসই বিমান জ্বালানি ভরা হবে। দুই ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে এখানে, যার ৮৮ শতাংশ বর্জ্য চর্বি এবং বাকিটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টা উৎপাদনের বর্জ্য। বিভিন্ন পরীক্ষা এবং বিশ্লেষণের পর ফ্লাইটটিকে এই মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেয়। বিমান ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক রোলস-রয়েস এবং এনার্জি জায়ান্ট বিপিসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত।

 

অ্যাভিয়েশন শিল্পে কার্বন নির্গমন কমানো বা ডিকার্বনাইজ করা বেশ কঠিন বলে ধারণা করা হয়। তবে এয়ারলাইনস কর্মকর্তারা মনে করেন, কার্বন নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনার সবচেয়ে কার্যকর উপায় ‘এসএএফ’ ব্যবহার। এসএএফ বা টেকসই বিমান জ্বালানি ব্যবহার করার সময়ও কার্বন নির্গত হয়, কিন্তু তা পুরো জীবনচক্রে কার্বন নির্গমন ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।

 

সবুজ বিমান জ্বালানি হিসেবে শূকরের চর্বি ব্যবহার করা ক্ষতিকর। তাই টেকসই বিমান জ্বালানিতে এর ব্যবহার অল্প পরিমাণে করা হয়েছে। যা ঐতিহ্যবাহী বিমানের ফুয়েলের সঙ্গে মিশ্রিত করা হয়। যুক্তরাজ্যে কোনো বাণিজ্যিক ‘এসএএফ’ প্লান্ট নেই। যদিও সরকারের লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচটি প্লান্ট নির্মাণ করা।

 

এয়ারলাইনসে এই প্রথম কোনো দূরপাল্লার ফ্লাইটে ১০০ ভাগ ‘এসএএফ’ ব্যবহার করা হবে। যা একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের জ্বালানি কোনো ম্যাজিক বুলেট নয়। ক্র্যানফিল্ড ইউনিভার্সিটির অ্যাভিয়েশন এবং এনভায়রনমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গাই গ্র্যাটন বলেছেন, ‘আমরা আমাদের জ্বালানির চাহিদার বেশির ভাগ এইভাবে তৈরি করতে পারি না, কারণ আমাদের কাছে সেই পরিমাণ কাঁচামাল নেই। যদিও থাকে, তাহলেও এই জ্বালানি মোট কার্বন নির্গমন শূন্য করবে না।’

 

পরিবেশবাদীরা বলছেন, কার্বন নির্গমন শূন্য করার একমাত্র পথ হলো, বিমান কম উড়ে যাওয়া। তবে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা এবং এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, যাত্রীসংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেলেও কার্বন নির্গমন ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্যে আনা সম্ভব।

 

সূত্র : বিবিসি

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *