পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিশুশ্রম উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। শিশুশ্রম থামানোর গতকাল সোমবার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। ২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে নিযুক্ত শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।
এএফপির খবরে বলা হচ্ছে, গত অর্থবছরে মার্কিন শ্রম বিভাগ ৮৩৫টি কোম্পানি চিহ্নিত করেছে, যারা আইন লঙ্ঘন করে ৩ হাজার ৮০০ শিশুকে কাজে নিযুক্ত করেছে। বিশেষ করে বিপজ্জনক কাজে শিশু নিয়োগ ২৬ শতাংশ বেড়েছে।
দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সীমিত সময় কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তাদের বিপজ্জনক কাজে নিযুক্ত করা নিষেধ রয়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ১২ বছরের কম, এমন শিশুরা গাড়ির কারখানা থেকে শুরু করে নির্মাণ সাইট এবং ডেলিভারি পরিষেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
লাতিন আমেরিকায় দারিদ্র্য ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা অভিভাবকহীন শিশুদের সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ শিশুশ্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছরে ১ লাখ ৩০ হাজার জনকে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থান দিয়েছে মার্কিন সরকার।
মার্কিন শ্রমমন্ত্রী মার্টিন ওয়ালশ এক বিবৃতিতে বলেছেন, সমস্যা মোকাবেলায় সব রাজ্যকে একসঙ্গে বসা দরকার। প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা একটি মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলেছেন, সমস্যাটি বেশ আতঙ্কজনক।
শিশুশ্রম বৃদ্ধি রোধ করার চেষ্টায় শ্রম বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও মানব সেবা বিভাগের একটি যৌথ টাস্ক ফোর্স কাজ করছে। তারা দায়ী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। যেসব কোম্পানিতে শিশু শ্রমিক বেশি সেসব কোম্পানিকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
ওয়ালশ বলেন, কোম্পানিগুলোর বক্তব্য শিশু শ্রমিক নিয়োগের জন্য তাদের সরবরাহকারী এজেন্সিগুলো দায়ী। বিদ্যমান আইন অনুসারে, শিশু শ্রম আইন ভঙ্গের সর্বোচ্চ জরিমানা প্রতি ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ১৩৮ ডলার। শ্রম বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বড় ও লাভজনক কোম্পানিগুলোর জন্য এই জরিমানা কিছুই না।


