পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মুসলমান হয়ে শুধু নামাজ-রোজা, হজ্ব-যাকাত পালন করাকেই ভালো বলা যায় না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, ফিদায়ে মিল্লাত আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, একজন মুসলমানের শুধু সত্য কথা বলাই ভালো না, শুধু নামাজ পড়াটাই ভালো না, কেবল হজ্ব করলেই ভালো বলা যায় না। ভালো হচ্ছে অনেকগুলো গুণের সমষ্টির নাম। আমাদের সমাজে এমন মানুষ দেখা যায়, যে সুদও খায়, নামাজও পড়ে। রোজাও রাখে, আবার অন্যের সম্পত্তি আত্মসাতও করে। অথচ এমন একজন সাহাবী পাবেন না, যিনি নামাজও পড়েছেন, আবার সুদও খেয়েছেন। এমন একজন সাহাবী নেই, যিনি রোজাও রেখেছেন, আবার মিথ্যাও বলেছেন। আংশিক ভালো কখনো ভালো নয়। তাই আমরা পুরোপুরি ভালো হওয়ার জন্য মেহনত করবো।
শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) ইকরা বাংলাদেশ ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে এসব কথা বলেন তিনি।
অমানুষকে মানুষ বানানো রাসূল সা. এর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, রাসূল সা. আগমনের পূর্বে এই পৃথিবী অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলো। মানুষ জানতো না ভালোবাসা কী জিনিস? মানুষ জানতো না সহমর্মীতা কাকে বলে? ইনসাফের ব্যাপারে মানুষ অজ্ঞ ছিলো। খুন-খারাবি, অন্যায়-রাহাজানি, ডাকাতি-লুটতরাজই ছিলো মানুষের একমাত্র পেশা। মানুষ পশুর চেয়েও হিংস্র হয়ে গিয়েছিলো। পাথর অপেক্ষা কঠিন ছিলো মানুষের অন্তরের অবস্থা। তাদের অন্তর এতো কঠিন ছিলো যে, নিজের কন্যা সন্তানকে জীবন্ত পুঁতে ফেলতে তাদের অন্তরাত্মা সামান্যও কাঁপতো না। রাসূল সা. আসলেন, ভালোবাসা দিয়ে এই অমানুষগুলোকে মানুষ বানালেন। এটা রাসূল সা. এর কৃতিত্ব যে, তিনি অমানুষকে মানুষ বানিয়েছেন।
“নবীদেরকে দেশ থেকে বিতারিত করা হয়েছে, তবু তাঁরা দমে যাননি”
আল্লাহ মানবজাতির হেদায়াতের জন্য যুগে যুগে আসমানী কিতাব ও নবী, রাসূল পাঠিয়েছেন উল্লেখ করে শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ ঊদ্দীন মাসঊদ বলেন, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক যুগে মানুষের হেদায়াতের জন্য কেবল ভালো উপদেশ দিয়েই ক্ষান্ত থাকেন নাই। ভালো উপদেশ দেওয়ার পাশাপাশি কিতাবও পাঠিয়েছেন। এমনকি কিতাব দিয়েও আল্লাহ তাআলা ক্ষান্ত থাকেন নাই। কিতাব বোঝানোর জন্য এবং মানবজাতিকে হেদায়েতের সঠিক রাস্তায় পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে বহু সংখ্যক নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন। প্রত্যেক নবী তার উম্মতকে হেদায়াতের পথে পরিচালনা করার জন্য অসহনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কোনো কোনো নবীকে দেশ থেকেও বিতারিত করা হয়েছে। তারপরও তারা দমে যাননি। নিন্দুকের নিন্দার সামনে নিজেদের দাওয়াতের কাজকে বন্ধ রাখেননি। উম্মতের জন্য তারা আমৃত্যু কষ্ট করে গেছেন।
আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারীমে কেন একটা ঘটনা বারবার উল্লেখ করেছেন সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনুল কারীমে আগেকার কোনো সম্প্রদায়ের গুনাহ-শাস্তি সম্বলিত ঘটনাকে বারবার উল্লেখ করেছেন। একটা ঘটনা বারবার উল্লেখ করার কারণ, মানুষ নতুন কোনো ঘটনা শোনে মজা পাওয়ার জন্য, আর পুরাতন ঘটনা শোনে শিক্ষা লাভ করার জন্য। একটা ঘটনা ঘটনা বারবার শোনার মাধ্যমে অন্তরের মধ্যে বিষয়টা গেঁথে যায়। এই জন্য আল্লাহ তাআলা পূর্বেকার যামানার অপরাধ-শাস্তির ঘটনা বারবার উল্লেখ করেছেন, যেন মানুষ সতর্ক হয়ে যায়।
তিনি বলেন, আগে এতো ওয়াজ মাহফিল হতো না। আগে জুমার দিন এতো বয়ান হতো না। কিন্তু মানুষ ভালো হতো। মানুষের মাঝে পরিবর্তন আসতো। আগে জুমার বয়ানের ওসীলায় খারাপ মানুষের অন্তরে আল্লাহ তাআলা হেদায়াতের আলো জ্বালাতেন। কিন্তু আজকাল জুমার বয়ানে কোরআন হাদীসের চেয়ে জ্বালাময়ী বয়ান দেয়া হয় বেশি, ওয়াজ মাহফিলগুলোতে সুরের ঝংকার তোলা হয়। কিন্তু মানুষের মাঝে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখজনক।
আরও পড়ুন: কুরআন অবমাননাঃ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান ও শান্তি বজায় রাখার আহবান আল্লামা মাসঊদের


