শুধু পড়লেই হবে না, খেলতেও হবে : ব্রিটিশ জার্নাল

শুধু পড়লেই হবে না, খেলতেও হবে : ব্রিটিশ জার্নাল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সারা দিন পড়াশোনা করলেই যে শিশু-কিশোরদের বুদ্ধির তেজ বাড়বে, তা আর বলা যাবে না। কারণ, গবেষকেরা বলছেন, এর চেয়ে যেসব শিশু পড়ার ফাঁকে ফাঁকে খেলাধুলা করে, দীর্ঘ মেয়াদে তারাই পড়াশোনায় ভালো করে। ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন দাবি করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএনআই সূত্র জানা যায়, একাডেমিক পড়াশোনায় দৈহিক অনুশীলন, যেমন দৌড়ানো কিংবা একই জায়গায় লাফানোর মতো বিষয় যুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল এনে দিতে পারে। অবশ্য এরই মধ্যে পশ্চিমা অনেক দেশের স্কুলে পাঠদানের সময় না কমিয়েই পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থীদের দৈহিক অনুশীলন যুক্ত করা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, শেখার সময় শারীরিক কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব আছে। প্রধান গবেষক এমা নরিস বলছেন, শারীরিক কর্মকাণ্ড শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো। বিশেষ করে যখন দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টা শ্রেণিকক্ষে শিশুদের একনাগাড়ে পড়াশোনা করতে হয়, তখন এটি অত্যন্ত উপকারী। তিনি বলেন, স্কুলের পাঠের সঙ্গে শারীরিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা শিশুদের জন্য ইতিবাচক। এভাবে শিখলে শিশুরা দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারে। আর এটি শিশুদের জন্য বেশ ফলপ্রসূ।

সহ-গবেষক টমি ভন স্টিন বলেন, এসব শারীরিক কর্মকাণ্ড বা দৈহিক অনুশীলনের জন্য কষ্টসাধ্য কোনো কিছু বাছাই করার দরকার নেই। শরীরচর্চার জন্য সাধারণ পদ্ধতিগুলোই ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি বলেন, শিক্ষকেরাও শ্রেণিকক্ষে শেখানোর সময় এসব দৈহিক অনুশীলন সহজেই বিদ্যমান পাঠ্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করে নিতে পারবেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টের এক খবরে বলা হয়েছে, এই গবেষণার জন্য গবেষকেরা ৪২টি গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করেছেন। ওই গবেষণাগুলো শেষ করতে ৩ থেকে ১৪ বছরের বয়সী ১২ হাজার ৬৬৩ জন শিক্ষার্থীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।

জানা যায়, এসব গবেষণার অর্ধেকের বেশি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বাকিগুলো করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, চীনসহ আরও পাঁচটি দেশে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *