সবজি বাজার: সরবরাহ ভালো, তবে দাম চড়া

সবজি বাজার: সরবরাহ ভালো, তবে দাম চড়া

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : শীত বিদায় নিলেও বগুড়ার বাজার এখন সবজিতে ভরপুর। খেতেও সবজির ছড়াছড়ি। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম মণপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে। পবিত্র রমজান মাসে সবজির দাম আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল শুক্রবার দেশের সবজির অন্যতম বৃহৎ পাইকারি মোকাম মহাস্থান হাট ঘুরে শীতকালীন সবজির দামের এই চিত্র দেখা গেছে।

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও সবজির দাম বাড়ছে কেন, জানতে চাইলে মহাস্থান হাটের আড়তদার ও কাঁচা-পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, শীত মৌসুমে মহাস্থান হাটে গড়ে ১০০ ট্রাক সবজি বেচাবিক্রি হয়। এ বছর শীত শেষ হলেও বাজারে সবজির সববরাহ স্বাভাবিক আছে। এখনো প্রতিদিন ৩০-৩৫ ট্রাক সবজি পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন পাইকারি মোকামে। তবে হিমাগারে সংরক্ষণ মৌসুম শুরু হওয়ায় হঠাৎ আলুর দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য সবজিতেও। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ সবজির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে রমজান মাস শুরু হবে। চাহিদা বাড়ায় রমজান মাসে কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, বেগুন, করলা, শসাসহ বেশ কিছু সবজির দাম বেড়ে যেতে পারে।

কৃষক ও পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহাস্থান হাটে গতকাল প্রতি কেজি দেশি পাকড়ি আলু ২০ টাকা, ডায়মন্ড আলু ১২, কাঁচা মরিচ ১৩০, গাজর ১৫, করলা ৭০, বাঁধাকপি ২০ (প্রতি পিস মাঝারি), ফুলকপি ১৫, মুলা ৩০, টমেটো ২৫, শসা ১৭, পটোল ৫০, পেঁপে ২০ টাকায় বেচাবিক্রি হয়েছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে মহাস্থান হাটে প্রতি কেজি দেশি পাকড়ি আলু ১৬, ডায়মন্ড আলু ৯, কাঁচা মরিচ ১০০, গাজর ১৩, বাঁধাকপি ১০ (প্রতি পিস মাঝারি), মুলা ২০, টমেটো ২০, শসা ১০, পেঁপে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শসা, কাঁচা মরিচ, ফুলকপি, লেবু ও পেঁপের দাম। এক সপ্তাহ আগে বড় আকারের লেবু প্রতি হালি (চারটি) বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১২ টাকায়। এখন সেই লেবুর দাম বেড়ে হালি ৩২ থেকে ৪০ টাকায় উঠেছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বেশির ভাগ সবজির দাম বাড়লেও দাম কমেছে পটোল, বেগুন ও করলার। এই তিন পদের সবজি এক সপ্তাহ আগে যথাক্রমে ৭০, ৪০ ও ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি করলা ৭০, বেগুন ৩০ ও পটোল ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

গতকাল মহাস্থান হাটে ১০ মণ পাকড়ি আলু বিক্রি করতে এসেছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলার জামুরহাটের কৃষক শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে হাটে আলু বিক্রি করে দাম পেয়েছি প্রতি মণ ৬৫০ টাকা। আজ প্রতি মণে ১০০ টাকা বেশি পেয়েছি।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *