পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়েছে। এই অধ্যায়ের প্রথম এবং প্রধান কাজ হচ্ছে সুন্দরভাবে নির্বাচন আয়োজন করা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ কথা জানান।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শুরু হয়ে দুপুরে শেষ হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ইন্ট্রোডাক্টরি রিমার্কে (উদ্বোধনী ভাষণ) বলেছেন- ৫ আগস্ট আমাদের প্রথম অধ্যায় শেষ হয়েছে। গত বুধবার প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে নির্বাচন কমিশনকে ফেব্রুয়ারি মাসে রোজার আগে ইলেকশন আয়োজনের বিষয়ে বলা হয়েছে। আজকে থেকে দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরু এবং উনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন- এই দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রধান কাজ হলো নির্বাচন সুন্দরভাবে করা।’
প্রসঙ্গত, দায়িত্ব নেয়ার পর গতকাল দ্বিতীয়বারের মতো সচিবালয়ে গেলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের সচিবালয়ে আসাকে কেন্দ্র করে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নবনির্মিত ১ নম্বর ভবনে এটাই প্রথম কোনো সরকারপ্রধানের বৈঠক।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব বলেন, আমাদের পুরো ফোকাস নির্বাচন ঘিরে। উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে। এ ছাড়া আরো দুইটা কাজ আছে আমাদের- একটা হলো সংস্কার, আরেকটা হচ্ছে ট্রায়াল।
আজকের (গতকালের) বৈঠকে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনের তারিখের বিষয়টা নির্বাচন কমিশন দেখেন। এখন নির্বাচন কমিশন বিস্তারিত দিন-তারিখ আপনাদের জানাবেন।
উপদেষ্টা পরিষদের সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রেস সচিব আরো বলেন, গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির নাম পরিবর্তন করে ‘ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি অব বাংলাদেশ’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ ছাড়াও মাইলেস্টোন ইনস্টিটিউশনের দুই শিক্ষক এবং এক আয়া মৃত্যুবরণ করায় তাদের সম্মান জানাতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষিকা মেহেরিন চৌধুরীর নামে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ অ্যাওয়ার্ড চালু করবে, যা সারা দেশের শিক্ষকদের মধ্যে প্রদান করা হবে।
জুলাই মাসের গণ-আন্দোলনে নিহত শহীদদের পরিবারকে সহায়তা দিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি নতুন বিধি প্রণয়নের কাজ শুরু করবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে আরো জানানো হয়, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার মাধ্যমে পাল্টা শিল্প শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ‘৩৬ জুলাই’-এর সফল আয়োজনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে যত প্রশ্ন-উত্তর : সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। নির্বাচনের বিতর্ক এড়াতে এসপি ওসিদের লটারির মাধ্যমে নিয়োগ হবে। সেক্ষেত্রে ডিসি নিয়োগে কি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কথাবার্তা বলা হচ্ছে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন। নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের পর আর এ বিষয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। তবে সবার মূল ফোকাস হচ্ছে কিভাবে একটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন করা যায়- এটাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
সেটা করার জন্য প্রশাসন কী ভূমিকা নেবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা করার জন্য আমাদের প্রচুর মিটিং হচ্ছে। গত এক মাসে প্রধান উপদেষ্টা দুইটা মিটিং করেছেন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বাহিনীদের নিয়ে। অনেক কথা বার্তা হয়েছে। এরমধ্যে একটা হচ্ছে- আনসার, পুলিশ এবং সেনবাহিনী কত বেশি নিয়োজিত করতে পারি। সেটা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগে তো ছিল ৮ লাখের মতো দেয়া যাবে। তবে এখন আরো বেশি ৫০ হাজার দেয়া যায় কি না- সেই চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আর্মির তরফ থেকে আগে এটা ধারণা দেয়া হয়েছিল ৬০ হাজার সদস্য থাকবে। এখন চিন্তা করা হচ্ছে- কত বেশিসংখ্যক নিয়োজিত করা যায়। এটা প্রতিনিয়ত রিভিউ হচ্ছে। আমরা পর্যালোচনা করছি।
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা বা এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জিজ্ঞেস করতে হবে। সরকারের তরফ থেকে আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যত দিন না পর্যন্ত তাদের লিডারদের ট্রায়ালটা শেষ হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ আস্থা তৈরি হয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার রোজার আগে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের যে ঘোষণা দিয়েছেন- সেটা মোটামুটি সব রাজনৈতিক দল স্বাগত জানিয়েছে। তাদের সাথে তো এর আগে অনেক দফা আলোচনা হয়েছে, সামনে আরো আলোচনা হবে। আমরা নিশ্চিত যে আমাদের খুব ভালো একটা নির্বাচন হবে।
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়েইং ফিল্ড হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মনে করি ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচনটা হবে সেটা ফ্রি ফেয়ার হবে এবং উৎসবমুখর হবে। আমরা সবাই আনন্দের সাথে ভোট দেবো। এতে কারো কোনো অভিযোগ থাকবে না।


