সামনে ‘ঈদ’  ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের বাড়তি চাপ

সামনে ‘ঈদ’ ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের বাড়তি চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বেড়ে গেছে লেনদেন। সকাল থেকে ব্যাংকগুলোতে তৈরি হচ্ছে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন।  বুধবার শবে কদরের ছুটির পর বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলোতে লেনদেন হবে। শনিবার ঈদ হলে শুক্র থেকে রোববার থাকবে ছুটি। তবে ঈদ রোববার হলে পরদিন সোমবারও ছুটি থাকবে। সেক্ষেত্রে মঙ্গলবার থেকে খুলবে ব্যাংক, অফিস-আদালত। ফলে ঈদের আগে লেনদেনের জন্য দুইদিন সময় হাতে পাচ্ছেন গ্রাহকরা। শেষ মুহূর্তে গ্রাহকদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকগুলোও। রোজার মধ্যে সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত লেনদেনের সময় নির্ধারিত থাকলেও মঙ্গলবার বেলা ২টায় সিটি ব্যাংকের মগবাজার শাখায় গিয়ে দেখা যায় প্রায় ৭০ জন গ্রাহক অপেক্ষায় আছেন। ব্যাংকের একজন রক্ষী জানালেন, অন্যান্য দিন এ সময় ৩০-৩৫ জন গ্রাহক থাকে। এই শাখায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রফিকুল আলম সেবা পাওয়ার জন্য যে টোকেন নিয়েছেন তার নম্বর ৩৬১। কিন্তু সে সময় সেবা নিচ্ছেন ২৫৬ নম্বর টোকেনধারী। অর্থাৎ প্রায় ১০০ জনের পেছনে পড়েছেন রফিকুল আলম। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সেবা না পেয়ে অনকেকেই চলে যেতে দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারে ডাচ-বাংলা ব্যাংক, নিউ ইস্কাটনে প্রাইম ব্যাংক, মতিঝিলে পূবালী ব্যাংকেও একই অবস্থা দেখা গেছে। কোন কোন ব্যাংকে নগদ টাকার ঘাটতি থাকায় আগে টাকা জমা নিয়ে পরে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেওয়া হচ্ছে। শুধু টাকা জমা কিংবা উত্তোলনই নয়, ঈদের ছুটির আগে ব্যাংকে প্রয়োজনীয় অনেক কাজও সেরে নিতে আসছেন গ্রাহকরা। কচুক্ষেত এলাকায় ট্রাস্ট ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সেখানে ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামজানান, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন তিনি, তাই ‘বেশ বড় অংকের টাকা’ তুলতে ব্যাংকে এসেছেন। শিবলী নামের একজন গ্রাহক জানালেন, এটিএম বুথে ডেবিট কার্ড ‘ক্যাপচার’ হয়ে গেছে, ঈদের আগে যেভাবেই হোক নতুন কার্ড দরকার তার।ক্যান্টনমেন্টের পোস্ট অফিস সংলগ্ন সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় কথা হয় অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ব্যবসার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম, ঋণের ইন্সটলমেন্ট দিতে এসেছি। টাকা জমা দেওয়ার জন্য হাতে আরও সময় থাকলেও ঈদের ছুটিতে পরিবারের সাথে গ্রামে চলে যাবেন বলে আগেভাগেই টাকা জমা দিচ্ছেন। বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথেও ভিড় করছেন গ্রাহকরা। কচুক্ষেতের ট্রাস্ট ব্যাংকের বুথে টাকা না থাকায় ক্ষুদ্ধ গ্রাহকদের ফিরে যেতে দেখা গেছে। ইব্রাহিমপুরের ডাচ-বাংলা ব্যাংক শাখার সামনেও গ্রাহকদের লম্বা লাইন চোখে পড়ে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *