সারাদেশে ‘ত্রাসের পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীনরা

সারাদেশে ‘ত্রাসের পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীনরা

পাথেয় রিপোর্ট : সারাদেশে একাদশ নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীনরা ‘ত্রাসের পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বের সহিংসতা, নির্বাচনের দিনের সহিংসতা ও নির্বাচনের পরের সহিংসতার মধ্যে দিয়ে আজকে গোটা বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনরা একটা ত্রাস ও ভীতির নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। আমরা দেখেছি নোয়াখালীতে আমাদের একজন বোন ধর্ষিত হয়েছেন।

সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার সেই নারীর খোঁজ-খবর নিতে ও তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে আজ শনিবার নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হন ফখরুলসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। পথে কুমিল্লায় যাত্রাবিরতির সময় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছি এবং সারাদেশে সর্বত্রে যে সহিংসতা হয়েছে, তার নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়েছি এই সহিংসতা প্রতিরোধ করার।

এ সময় ভোটের পরের সহিংসতা রোধে পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে ফখরুল বলেন, “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মধ্যে দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হলো আবার। এই ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দেশের প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে এখন গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে যে ঘটনা (এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ) ঘটেছে, এটা যারা ঘটিয়েছে এবং এর পেছনে যারা রয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিচার করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শনিবার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় ‘নির্বাচনের নামে দেশে প্রহসন হয়েছে’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা দেশকে গণতন্ত্রহীন এবং অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, এটা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা ও প্রহসন। জনগণ তা মেনে নেয়নি ও মেনে নেবেও না। নির্বাচনের আগে ও পরে যে ধরনের নৃশংসতা হয়েছে তা ইতিহাসে বিরল।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একদল যুবক ওই নারীর বসতঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তার স্বামী-সন্তানদের অস্ত্রের মুখে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ওই নারীকে ঘরের বাইরে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনার পর গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর খোঁজ-খবর নিতে ও তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে শনিবার সকালে নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। দুপুর সাড়ে ১২টায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছান তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *