পাথেয় রিপোর্ট : সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার (৪ মার্চ) রাত আটটা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছালে তাৎক্ষণিকভাবে তার চিকিৎসা শুরু হয়। এর আগে তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স রাত আটটার দিকে সিঙ্গাপুরে পৌঁছায়।
ভারতের প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট দেবী শেঠির পরামর্শে সোমবার বিকেল চারটা ১২ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার সহধর্মিনী ইশরাতুন্নেছা কাদের এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আবু নাছের রিজভী রয়েছেন। ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের পথে কাদেরকে দেখভাল করার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আছেন মাউন্ট এলিজোবেথ হাসপাতালের দুজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও একজন টেকনিশিয়ান। রোববার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গেই ঢাকায় এসেছিলেন তারা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া ভারতের প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট ডা. দেবী শেঠির বক্তব্য উদ্ধৃত করে সাংবাদিদের বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরকে চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত যা কিছু করা হয়েছে, তা সঠিক।’ তিনি বলেন, তার (ওবায়দুল কাদের) শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তবে শঙ্কামুক্ত নন। আমরা ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার সর্ব শেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণে ডা. দেবী শেঠির পরামর্শের অপেক্ষা করছিলাম। ডা. শেঠি সোমবার দুপুর পৌনে ১টায় বিএসএমএমইউ’র সিসিইউতে এসে পৌঁছান এবং চিকিতৎসাধীন ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে তাকে বিদেশে হৃদরোগ সংক্রান্ত বিশেষায়িত কোন হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। ইতিমধ্যেই সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ একটি দল ওবায়দুল কাদেরকে নেওয়ার জন্য ঢাকায় অবস্থান করায় ওই হাসপাতালের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করেই তাকে সেদেশে পাঠানো হয়।’
ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিমুক্ত কিনা একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, তার ডায়াবেটিস অনিয়মিত পরীক্ষা করা হতো। আগেও হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। এরপর ঠিকভাবে শরীর চেকআপ করা হয়নি। তার রক্তে ইনফেকশনের ব্যাপার আছে। সেটাও বেড়ে গেছে। তাকে শিফট করার এখনই ভালো সময়। ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘ভারতের নামকরা হূদরাগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠি ওবায়দুল কাদেরকে দেখেছেন। সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার পর তিনি মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন। দেবী শেঠি বলেছেন, আপনারা যে চিকিৎসা দিয়েছেন, চমৎকার চিকিৎসা হয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকা হলেও একই চিকিৎসা হতো। এই রোগে এর বেশি কিছু করা সম্ভব না। দেবী শেঠীর বাংলাদেশে আসার প্রক্রিয়াটা মোটেই সহজ ছিলো না। এক রাষ্ট্র থেকে আরেক রাষ্ট্রে যাবেন দেবী শেঠী, ভিসা তো লাগবেই। বাংলাদেশে যেতে হবে সেটা দেবী শেঠী জেনেছেন সোমবার ভোরে। দেবী শেঠী থাকেন ভারতের বেঙ্গালুরুতে। ভোর থেকেই তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তুমুল ব্যস্ততার মধ্যে পড়েন কলকাতার উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা। প্রথমবার নিয়মের ঊর্ধ্বে উঠে কনস্যুলার মনসুর আহমেদ বিমানবন্দরে গিয়ে বাংলাদেশের ভিসা প্রসেসের সব কাজ সম্পন্ন করেন। এমন ঘটনা কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের জন্য প্রথম।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্যের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. সৈয়দ আলী আহসান বলেন, তার রক্তের পিএইচ মোটামোটি স্বাভাবিক, ব্লাড সুগার আগে ২৬ ছিল, ইনসুলিনের মাধ্যমে কমানো হয়েছে। তবে ভেন্টিলেশন এখনও খোলা যাবে না। কেননা তিনি সিওপিডি রোগী। যারা ধুমপান করে তারা সাধারণত সিওপিডি রোগী হয়। তাই এটা খুলতে আরো সময় লাগবে। প্রেসার স্বাভাবিক থাকলেও মাঝে মধ্যে বাড়ছে। ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালান্সের যে বিষয়টি ছিল, সেটাও এখন নরমাল।
তিনি বলেন, এখন তিনি (কাদের) নড়াচড়া করছেন। ডা. আহসান বলেন, তার অবস্থা স্টেবল রয়েছে, উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তবে হৃদযন্ত্র স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। বিএসএমএমইউ’র উপ-উপাচার্য ডা. শহীদুল্লাহ শিকদার, কার্ডিলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. সৈয়দ আলী আহসান ও আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা রোকেয়া সুলতানাসহ মেডিকেল টিমের অন্য সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘এখন সবাই রেডি আছি। সিঙ্গাপুরের টিমের ওপর নির্ভর করছে কখন সেখানে যাবেন। যত দ্রুত সম্ভব তাকে নিয়ে যাওয়া হবে।’ এর আধা ঘণ্টার মাথায় বিকাল পৌনে ৩টায় করোনারি কেয়ার ইউনিটের সুবিধা সম্বলিত একটি অ্যাম্বুলেন্স ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে পুলিশি পাহারায় বিমানবন্দরের পথে রওনা হয়। আগেই পুরো রাস্তা খালি করে দেওয়ায় বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ২০ মিনিট। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাল সোয়া চারটায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজোবেথ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান এবং পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রী এনামুল হক শামীম ও দলের উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বিমানবন্দরে দলের সাধারণ সম্পাদককে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন।


