সিনহা হত্যা মামলায় কক্সবাজার
পুলিশ সুপারকে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন খারিজ
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অবঃ) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকে আসামী হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার সপ্টেম্বর দুপুরে সিনহা হত্যা মামলার বাদী বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস আদালতে এ আবেদন করেন।
কক্সবাজার জৈষ্ঠ্য বিচারক আদালত সদর-৪ তামান্না ফারাহ’র আদালতে এই আবেদনটি দায়ের করলে, তদন্ত কর্মকর্তা চাইলে যে কোন সময় ব্যাবস্থা নিতে পারেন মর্মে খারিজ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট ফরিদুল আলম। এর আগে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা সংবাদমাধ্যমকে জানান, সিনহা হত্যার আগে ও পরে পুলিশ সুপারের সাথে আসামীদের যোগাযোগ ছিল। আসামীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করছেন। তাই বাদী মনে করছেন পুলিশ সুপারকে এই মামলায় আসামী করা জরুরী।
এদিকে ন্যায় বিচার পাবার আশায় এ আবেদন করেন বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এরপর ৫ আগস্ট এ ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতে মামলা করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। মামলার তদন্ত ভার দেয়া হয় র্যাবকে।
এ মামলায় গত ৬ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন পুলিশের ৭ সদস্য। গত এক মাসে র্যাব এপিবিএন’র ৩ সদস্য, পুলিশের মামলার ৩ সাক্ষীকে আটক করে মোট ১৩ জনকে নানা মেয়াদে রিমান্ডে নিয়েছে। ১২ জন আসামী এ পর্যন্ত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এর মধ্যেই আজ আদালতে নতুন আবেদনটি খারিজ করল আদালত।
কক্সবাজারে প্রদীপসহ ৫৬জনের বিরুদ্ধে আরও দুটি হত্যা মামলা : পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অবঃ) সিনহা হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা টেকনাফে থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৫৬জনের বিরুদ্ধে আরও দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। আবদুল আমিন ও মফিদ আলম নামে দুই ব্যক্তি বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যা উল্লেখ্য করে ৪৬জন পুলিশ ও তাদের সযোগী হিসেবে ১০জন স্থানীয় বাসিন্দার নাম উল্লেখ করে মোট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা ২টি করেন নিহতের স্বজনেরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে, কক্সবাজার জৈষ্ঠ্য বিচারিক আদালত (টেকনাফ-৩) মো. হেলাল উদ্দিনের আদালতে এই মামলা ২টি দায়ের করা হয়। আদালত মামলা দুটি আমলে নিয়ে মামলার নথিপত্র আগামী ৯ নভেম্বর আদালতে উপস্থাপনের জন্য টেকনাফ থানাকে নিদের্শ দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু মুছা মুহাম্মদ।
মামলার বাদী নুরুল আমিন এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তার ভাই আবদুল আমিনকে আটক করে পুলিশ। এরপর ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দেয়ার পরও ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে হত্যা করা হয় আবদুল আমিনকে। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩৮ জনকে। যার মধ্যে ৩০ জন পুলিশ সদস্য। একইভাবে মামলার আরেক বাদী মোহাম্মদ সেলিম এজহারে উল্লেখ করেন,গত ২০১৯ সালের ১১ জুলাই তার ভাই মফিদ আলমকে আটক করে টেকনাফ থানা পুলিশ । এরপর ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হলে ৬ লাখ টাকা দেয়ার পরও ১৪ জুলাই হত্যা করা হয়। এতে আসামি করা হয়েছে ১৮ জনকে। যার মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য।
এ নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সিনহা নিহতের ঘটনার পর ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যার অভিযোগ ও সাংবাদিক নির্যাতনের দায়ে মোট ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।


