ওয়ার্ল্ড ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পা রাখায় সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে জোরালো বিক্ষোভ হয়েছে। ইয়েমেন যুদ্ধে সালমানের ভূমিকার সমালোচনা করে বুধবার ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে কড়া প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন ব্রিটেনের নাগরিকরা। সেসময় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের ভেতরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স সালমান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসা ও মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার বাকিংহাম রাজপ্রাসাদে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে মিলিত হন বিন সালমান। এদিন রাতে প্রিন্স চার্লস ও প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন তিনি। খবর আলজাজিরার।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন ব্রিটেনের বিরোধী লেবার দলের ছায়া আইনমন্ত্রী রিচার্ড বারগো, ছায়া বাণিজ্যমন্ত্রী লরা পিডকক। রিচার্ড বারগো এ সময় একটি ছবি প্রদর্শন করছিলেন। ঠিক ডাউনিং স্ট্রিটের বিপরীতে তার হাতে ধরা ওই ছবিতে একটি বার্তা ছিল। এতে বলা হয়, বুধবার রাতে আমি, এমপি লরা পিডকক ও লেবার দলের অন্য এমপিরা ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছি। এই বিক্ষোভ সৌদি আরবের শাসক ও বোমা ক্রয়কারী প্রধানকে দেয়া লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়ার বিরুদ্ধে।বিশাল দলবহর নিয়ে তিন দিনের ব্রিটেন সফরে রয়েছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স। বুধবার তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ সময় উভয় দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ওই আলোচনায় আগামী বছরগুলোতে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত ৬৫০০ কোটি পাউন্ডের টার্গেট ধরা হয়। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় ব্রিটেন-সৌদি আরব কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিষয়ক পরিষদের বৈঠক। দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে এখন থেকে প্রতি বছর এ বৈঠক হবে। সৌদি যুবরাজ বলেন, ইয়েমেন যুদ্ধের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে এবং যুদ্ধও শেষের দ্বারপ্রান্তে উপনীত। হুথি বিদ্রোহীদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখোমুখি লড়াইয়ে কেবল অল্প কিছু হুথি বিদ্রোহী এখন বাকি আছে। রাজনৈতিক সমাধানই এ যুদ্ধ বন্ধের একমাত্র পথ হবে বলে সম্মত হয়েছেন সালমান ও তেরেসা। ইয়েমেন যুদ্ধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তেরেসা বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক।


